ছবির ক্যাপশন:
আগামী ২০ মার্চ মেহেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির নির্বাচন
সম্পাদক সাইদুর রহমান জানালেন, শিল্পকলায় কেউ আসতে চায় না
প্রতিবেদক, মেহেরপুর:
মেহেরপুরের মানুষ শিল্পকলা একাডেমি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান। আগামী ২০ মার্চ মেহেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির নির্বাচন। বিগত দুই নির্বাচনে হাজারের ওপরে ভোটার থাকলেও এবার মাত্র ৩২০ জন সাংস্কৃতিক কর্মী তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে আজীবন সদস্য ৭৫ জন। বাকি ২৪৫ জন সাধারণ ভোটারের মধ্যে গাংনী উপজেলায় মাত্র ৭ জন এবং মুজিবনগর উপজেলায় রয়েছেন ৮ জন ভোটার। তবে সর্বাধিক ভোটার রয়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানের গ্রাম আমঝুপিতে ৬২ জন।
সিংহভাগ সাংস্কৃতিক কর্মীর অভিযোগ, বর্তমান কমিটি গোপনীয়তা ও স্বজনপ্রীতি অবলম্বন করে গোপনে এবার সদস্য পদ নবায়ন করেছেন। শিল্পকলার সম্মাননাপ্রাপ্ত সদস্য, আজীবন সদস্য ও বিগত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীরাও জানেন না এবারের সদস্য পদ কবে নবায়ন হলো। তাই তাঁরা তাঁদের প্রাণের শিল্পকলার নির্বাচন থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এবার নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সহসভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানকে বলেছিলাম সাংস্কৃতিক কর্মীদের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য মাইকিংসহ প্রচার-প্রচারণার বিষয়ে কিন্তু তিনি বললেন, পূর্বে প্রচার-প্রচারণা করা হয়েছে, তাই এখন আর প্রচার-প্রচারণা নয়। মেহেরপুর মৃত্তিকা গ্রুপ থিয়েটারের সভাপতি মানিক হোসেন ও আমঝুপি গ্রামের নাট্যকর্মী ফয়জুল কবির কোনো আবেদন না করেই কীভাবে তাঁরা ভোটার হলো তা জানেন না।’
মৃত্তিকা গ্রুপ থিয়েটারের সভাপতি মানিক হোসেন বলেন, গত নির্বাচনে শিল্পকলার ভোটার ছিল ১১৩৭ জন তাঁর আগের বার ছিল ২ হাজার ২১৫ জন। কিন্তু এবার মাত্র ২৪৫ জন সাধারণ ভোটার। তাই শিল্পকলার মোটা অংকের আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
২০১৯ সালে জেলা শিল্পকলা একাডেমির গুণীজন সম্মাননাপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী শওকত আরা মিমি বলেন, ‘সদস্য পদ নবায়নের বিষয়ে আমাকে কেউ জানাননি বা আমি কোনো মাধ্যমে জানতে পারি নেই, তাই এবার শিল্পকলার সদস্য পদ নবায়ন করতে পারেনি।’
সাংস্কৃতিক কর্মী বেলাল ওসমান বলেন, শিল্পকলার সংবিধান অনুযায়ী ২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য গ্রহণের শেষ সময় বলে বর্তমান কমিটি দাবি করছেন। তবে তাঁরা অক্টোবর-নভেম্বরেও বিশেষ ব্যক্তিকে সদস্য পদ প্রদান করেছেন, যার রশিদ আমার কাছে আছে। করোনা সংকটকালীন সময়ে যখন সবকিছু থেমে ছিল। সরকারে নির্দেশ না মেনে অত্যন্ত গোপনে সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্যভুক্তিকে আমি মনে করি অপরাধ।’
অরণি থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক আতিক স্বপন বলেন, ‘আমি বিগত তিনবার নির্বাচন করেছি। এবার কিছু জানতেই পারলাম না। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক ও শিল্পকলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটিকে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছি। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও জেলা প্রশাসক পৃথকভাবে আমার বক্তব্য শুনেছেন কিন্তু আমাদের জন্য কোনো আলোর পথ দেখাতে পারেননি। তাছাড়া এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে মেহেরপুর প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।’
মেহেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বলেন, বর্তমানে মানুষ শিল্পকলা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন, শিল্পকলায় কেউ আর আসতে চান না। তাছাড়া শিল্পকলায় যারা সদস্য পদ নেন, তাঁরা কেউ টাকা দিয়ে সদস্য হয় না। যারা ভোট করে, তাঁরাই টাকা খরচ করে সদস্য করে। এবার অনেকে টাকা খরচ না করায় শিল্পকলার ভোটার সংখ্যা কমেছে।
আগামী ২০ তারিখের নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে নুরুল আহমেদ ও ফৌজিয়া আফরোজ তুলি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে সাইদুর রহমান ও নিশান সাবের, যুগ্ম সম্পাদক পদে আলী রেজা বিচু, মহিদুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং নির্বাহী সদস্য পদে আবুল হাসনাত দিপু, মৌসুমী ঢালী, জাহিদ হাসান রাজিব, সুলতানা রাজিয়া টনি, মিনারুল ইসলাম ও রিণ্টু রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
