ছবির ক্যাপশন:
মাথায় গুরুতর ক্ষতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন, আজ লাশ আনতে যাবে পরিবার
সমীকরণ প্রতিবেদক:
ফরিদপুরে এগ্রো ফার্মের এক শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার পর পুকুর পাড়ে লাশ ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বেলা দুইটার দিকে ওই শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ। নিহত শ্রমিক জিনারুল ইসলাম ওরফে শুকুর চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার বড়গাংনী ইউনিয়নের সাহেবপুরের মৃত কাবুল মন্ডলের ছেলে। এদিকে, মরদেহ উদ্ধারের পরে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে অপরাধী সনাক্তে ও হত্যার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে জোর অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
জানা যায়, জিনারুল ইসলাম ওরফে শুকুর প্রায় দেড় বছর আগে ফরিদপুর জেলা সদরের শিবরামপুর গ্রামে অবস্থিত বিপুল এগ্রো ফার্মে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যান। সেখানে সে এক বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত। গতকাল সোমবার বেলা দুইটার দিকে ফার্মের ভেতরে অবস্থিত পুকুর পাড়ের স্যালোমেশিন ঘরে এগ্রো ফার্মে শ্রমিক জিনারুল ইসলাম ওরফে শুকুরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশসহ মুখে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
নিহত জিনারুলের প্রতিবেশী আমজাদ জানান, ‘জিনারুল প্রায় দেড় বছর আগে ফরিদপুরে কাজের জন্য যায়। তারপর থেকে সে আর বাড়ি আসেনি। তাকে তার বাড়ির লোকজন বাড়ি আসার কথা বললে সে বলতো মালিক বেতন দেয়নি। বেতন দিলে তবেই সে বাড়ি আসবে। আমরা জিনারুলের ফার্মের মালিকের সাথে তার বাড়ি আসার বিষয়ে ছুটি চেয়ে ফোন করেছি। ফার্ম মালিক লোকটাকে আমাদের সুবিধার মনে হয়নি। তিনি বলতেন জিনারুলের সব বেতন পরিশোধ করে দেওয়া হবে। এছাড়া ওই ফার্ম মালিক জিনারুলের মৃত্যুর বিষয়ে আমাদের কিছু জানাইনি। জিনারুল ব্যক্তি জীবনে অবিবাহিত ও সহজ-সরল প্রকৃতির ছিল।’
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুল করিম জানান, ‘আমরা স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে শিবরামপুর গ্রামে অবস্থিত বিপুল এগ্রো ফার্মের ভেতরে অবস্থিত পুকুর পাড়ের স্যালোমেশিন ঘর থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করি। পরে তার কাছের আইডি কার্ড থেকে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে নিহতের বাড়িতে খবর দেওয়া হয়।’ তিনি বলেন, ‘নিহত জিনারুলের মাথায় গুরুতর ক্ষতচিহ্নসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, জিনারুলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা জিনারুলের কর্মস্থল বিপুল এগ্রো ফার্মের অন্যান্য শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। ঘটনার তদন্তের স্বার্থে তা বলা সম্ভব হচ্ছে না।’
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) শহিদুল ইসলাম জানান, ‘মরদেহ উদ্ধারের পরে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে অপরাধী সনাক্তে ও হত্যার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে জোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
এদিকে, ছোট ভাই জিনারুলের মৃত্যুর খবরে পেয়ে বড় ভাই মিনারুল আজ (সোমবার) সকালে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন বলে জানা যায়।
