কাবিননামা দিতে অস্বীকার, বিপাকে মেয়ে পক্ষ!

আপলোড তারিখঃ 2021-02-18 ইং
কাবিননামা দিতে অস্বীকার, বিপাকে মেয়ে পক্ষ! ছবির ক্যাপশন:
দামুড়হুদার কুতুব কাজীর বিরুদ্ধে বাল্যবিবাহ পড়ানোর অভিযোগ প্রতিবেদক, দামুড়হুদা: দামুড়হুদার বহুল আলোচিত কুতুব কাজীর বিরুদ্ধে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বাল্যবিবাহ পড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের মাঠপাড়ার আহার আলীর নাতনী ৭ম শ্রেণির ছাত্রী সানজিদা খাতুনের (১৫) সঙ্গে একই গ্রামের ডালুর ছেলে স্বাধীনের (২০) ২ লাখ টাকা দেনমোহরে বাল্যবিবাহ পড়ান তিনি। গত বছরের ৭ নভেম্বর কুতুব কাজী তাঁর বাড়িতে বসে এ বিবাহ পড়ান (যার ভিডিও এ প্রতিবেদকের হাতে পৌঁছেছে)। স্বাধীন তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে দেড় মাস সংসার করার পর স্বাধীনসহ তাঁর পরিবারের লোকজনের অত্যাচারে সানজিদা বাবার বাড়িতে চলে যায়। এখন স্বাধীন ও তার পরিবারের লোকজন বলছে সানজিদাকে স্বাধীন বিয়ে করেনি। পরে সানজিদা খাতুন বাদী হয়ে আদালতে স্বাধীনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কোর্ট বিয়ের কাবিননামা দেখতে চাইলে সানজিদার পরিবার কুতুর কাজীর নিকট কাবিনামা চাইতে যান। কিন্তু কুতুব কাজী বিয়ে দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে স্বাধীনের পরিবার কুতুব কাজীকে ম্যানেজ করেছে। তাই তিনি বিয়ে দেওয়ার কথা অস্বীকার করছেন। অথচ কাজী যখন বিয়ে পড়ান, তখন ভিডিও করে রাখেন মেয়ে পক্ষের লোকজন। টাকা নিয়ে তিনি কাবিননামা না দেওয়ার পায়তারা চালিয়ে আসছে। একদিকে স্বাধীন সানজিদাকে বিয়ে করে দেড় মাস সংসার করে বিয়ের কথা অস্বীকার করছে, অন্য দিকে কুতুব কাজী বিয়ের কাবিননামা না দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। সানজিদার খালা সালমা বেগম জানান, ‘স্বাধীন আমার বোনের মেয়ে সানজিদাকে একজনের বাড়ি নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে একই গ্রামের তাহাজ্জত মোড়ল স্বাধীন ও সানজিদার বিয়ে দিয়ে সেইসময় বিষয়টি মীমাংসা করে। এখন গ্রামের মোড়ল তাহাজ্জত বলছে, তাদের বিয়ে হয়নি। স্বাধীন কোর্টে বলেছে, আমি বিয়ে করিনি। কুতুব কাজীও বলেছে ছেলে-মেয়ের বয়স হয়নি, আমি কাবিননামা দিব না, আপনারা যা পারেন, তাই করে নেন। আমরা এখন মেয়েকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছি।’ স্বাধীনের বাবা ডালু বলেন, ‘দেড় মাসে আগে আমার ছেলের সঙ্গে সানজিদার বিয়ে হয়। সে আমার বাড়িতে বেশ ভালোই ছিল। কিন্তু বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে সে আর আসেনি।’ এ কথার বলার কিছুক্ষণ পর তিনি বিয়ের কথা অস্বীকার করেন। কুতুব কাজী বলেন, ‘আমি বিয়ে পড়িয়েছি, আপনাদের কাছে ভিডিও আছে তাই কি হয়েছে, আমি তাদের কাবিননামা দিব না। আপনারা যা পারেন, তাই করেন।’ একই গ্রামের মোড়ল তাহাজ্জত আলী বলেন, তাদের তো বিয়ে হয়নি। বিয়ে হয়নি তাহলে তারা দেড় মাস সংসার করল কীভাবে, এমন প্রশ্ন করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এবিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল খালেক জানান, ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, দেড় মাস আগে সানজিদা খাতুনকে ফুসলিয়ে ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন স্বাধীন। তাঁর সহযোগিতায় ছিলেন একই এলাকার সুবারেকের ছেলে রাহুল (২০) ও হাশেমের ছেলে শাকিল (২২)। এসময় সানজিদার চিৎকারে পাড়া-প্রতিবেশীরা এসে তাদেরকে দেখে ফেলে। পরে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর গ্রামের মোড়লার স্বাধীনের সঙ্গে সানজিদার বিয়ে দিয়ে দেয়।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)