আলমডাঙ্গা ও জীবননগর পৌরসভা নির্বাচন : শেষ মুহুর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা
আলমডাঙ্গা ও জীবননগর অফিস:
আজ দিবাগত রাত ১২টা থেকে বন্ধ হচ্ছে আনুষ্ঠানিক সকল প্রকার প্রচার প্রচারণা। তবে শেষ মুহুর্তে এসে জমে উঠেছে আলমডাঙ্গা ও জীবননগর পৌরসভা নির্বাচন। প্রচার-প্রচারণার সময় শেষ হওয়ায় শেষ বারের মতো ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা। আলমডাঙ্গা ও জীবননগর তথা পুরো চুয়াডাঙ্গা জুড়েই এখন আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু কে হবেন, এই দুটি পৌরসভার নতুন অভিভাবক। বাড়ি বাড়ি মুখে মুখে তো আলোচনা আছেই, চায়ের আড্ডায় প্রার্থীর দোষ-গুণ নিয়ে বিশ্লেষণ করছেন সাধারণ ভোটাররা।
এদিকে, বিধি অনুযায়ী, কোনও নির্বাচনি এলাকার ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৩২ ঘণ্টা, নির্বাচনি এলাকায় কোনও জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান এবং কোনও মিছিল বা শোভাযাত্রা করতে বা তাতে অংশ নিতে পারবেন না। ওই সময়ে কোনও আক্রমণাত্মক কাজ বা বিশৃঙ্খলামূলক আচরণ করতে পারবে না। ভোটার বা নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত বা দায়িত্বরত কোনও ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা যাবে না। কোনও অস্ত্র বা শক্তিও প্রদর্শন বা ব্যবহার করতে পারবে না কেউ। কেউ এ আইন ভঙ্গ করলে ন্যূনতম ছয় মাস ও অনধিক সাত বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হবেন।
অন্যদিকে, শেষ সময়ে মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রচার-প্রচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে দুটি পৌর এলাকাই। পছন্দের প্রার্থী নিয়ে একে অপরের সঙ্গে মাঝে-মধ্যে কড়া আলোচনা-সমালোচনাও করছেন ভোটাররা। আবার প্রার্থীরা পাড়া-মহল্লায় গিয়ে উঠান বৈঠক, চা-চক্র ও কুশলাদি বিনিময়সহ সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভোট প্রার্থনা করছেন। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও নানা পোস্ট করে ভোট প্রার্থনা করছেন তাঁরা। দুটি পৌরসভার প্রার্থীরাই নিজ নিজ পৌরসভাকে আধুনিক পৌরসভা হিসেবে সকল নাগরিক-সুবিধা নিশ্চিতসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
এদিকে, জীবননগর পৌরসভা নির্বাচনে ৩জন মেয়র প্রার্থী, ৯জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী ও ৫৪জন সাধারণ কাউন্সিলরসহ মোট ৬৬জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অংশগ্রহণ করছে। আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও জীবননগর পৌর আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শাজাহান ও ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী খোকন মিয়া মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
অপরদিকে, আলমডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন বর্তমান মেয়র হাসান কাদির গনু মিয়া, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব মীর মহিউদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোবাইল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এম সবেদ আলি। নির্বাচনে ৩জন মেয়র প্রার্থী, ১২জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী ও ৩৬জন সাধারণ কাউন্সিলরসহ মোট ৫১জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অংশগ্রহণ করছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা নির্বাচন অফিসার ও আলমডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে রির্টানিং অফিসার তারেক আহমেমদ বলেন, আচরণবিধি অনুযায়ী ভোট গ্রহণের ৩২ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সকল প্রকার প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হয়ে যাবে। নির্বাচনি এলাকায় কোনও জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান এবং কোনও মিছিল বা শোভাযাত্রা করতে বা তাতে অংশ নিতে পারবেন না।
