ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহ অফিস:
বড় ধরণের দুর্ঘটনা ও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়ায় ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর ও হরিণাকুণ্ডু পৌরসভা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটাররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ম্যাজিস্ট্রেটগণের ব্যাপক তৎপরতা থাকলেও হরিণাকুণ্ডু পৌর এলাকার শুড়া ফতেপুর, লালন শাহ অনার্স কলেজ, প্রিয়নাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হরিণাকুণ্ডু সরকারি বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বহিরাগতদের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁদেরকে ভোট কেন্দ্রের ভেতর প্রভাব বিস্তার করতে দেখা গেছে। এই বহিরাগতদের প্রভাব বিস্তার ও আনাগোনার প্রতিবাদ করার কারণে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। ভোট কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে রওশন আলী নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেও পরে তাঁকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
অপর দিকে, ৩৮ বছরের রেকর্ড ভেঙে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌরসভায় মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সহিদুজ্জামান সেলিম। তিনি মোবাইল প্রতীকে নিয়ে ৮ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৮৩ সালে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর কোটচাঁদপুরে এবারই প্রথম আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এখানে মেয়র হিসাবে নির্বাচিত হলেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দীন বুলবুল সিডল ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭ হাজার ১১৯ ভোট। আর আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী নৌকা প্রতীকে শাহাজাহান আলী পেয়েছেন ২ হাজার ৩৮ ভোট। কোটচাঁদপুর পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৪৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ হাজার ৪৮৫ জন এবং মহিলা ভোটার ১৪ হাজার ৮ জন।
অন্যদিকে, হরিণাকুণ্ডুু পৌরসভায় জয়ী হয়েছেন নৌকার প্রার্থী ফারুক হোসেন। তিনি পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৪৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সাইফুল ইসলাম টিপু মল্লিক জগ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪ হাজার ৯১৩ ভোট। হরিণাকুণ্ডু পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৭ হাজার ৭৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ৩৯২ জন এবং মহিলা ভোটার ৮ হাজার ৬৮৩ জন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষে দুই পৌর এলাকায় ২৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দুইজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিয়ন্ত্রণে চার প্লাটুন বিজিবি, ৪৬৫ জন পুলিশ এবং ২০৭ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।
