জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ আজ

আপলোড তারিখঃ 2021-01-29 ইং
জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ আজ ছবির ক্যাপশন:
থাকছে চুয়াডাঙ্গার বিখ্যাত গুড় ও ট্রাফিক সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয়কে নিয়ে প্রতিবেদন ফেরদৌস ওয়াহিদ: আজ প্রচারিত হবে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। আজ শুক্রবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বিটিভি ওয়াল্ডে একযোগে প্রচারিত হবে দর্শকনন্দিত এ অনুষ্ঠানটি। একই পর্ব পুনরায় প্রচারিত হবে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা ৪০ মিনিটে। অনুষ্ঠানটি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত। ইত্যাদির এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায়। সাগরের কোলে গড়ে ওঠা নান্দনিক স্থাপত্য বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের সামনে ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠানটি ধারণ করা হয়। ‘ইত্যাদি’র এবারের পর্বে থাকছে গুড় একটি অত্যন্ত প্রাচীন মিষ্টিজাতীয় খাদ্য এবং বাঙালি সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এবারে সেই গুড় তৈরি, গুড়ের মান ও বিক্রির ওপর রয়েছে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। প্রতিবেদনটি ধারণা করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গা ও সরোজগঞ্জে। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গা জেলার ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাসের অনন্য পাখিপ্রেমের ওপর রয়েছে একটি উদ্বুদ্ধকরণ প্রতিবেদন। গত ২৬ নভেম্বর কথাসাহিত্যিক হানিফ সংকেত চুয়াডাঙ্গায় এসে প্রতিবেদন দুটি ধারণ করেন। এদিকে, চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী বিখ্যাত গুড় এবং চুয়াডাঙ্গা ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাসের অনবদ্য পাখিপ্রেমের অপর প্রতিবেদন এবারের ‘ইত্যাদি’র পর্বে থাকায় তা চুয়াডাঙ্গা জেলাবাসীর কাছে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঢুকলেই সামনে ভেসে উঠছে এবারের ‘ইত্যাদি’র পর্বে চুয়াডাঙ্গা নিয়ে প্রতিবেদন দুটির কথা। শুধু সোস্যাল মিডিয়া নয়, শহরে-গ্রামে, চায়ের দোকানে সর্বত্র সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এবারের ‘ইত্যাদি’। জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানটি দেখার জন্য উৎসুক হয়ে আছে এ এলাকার মানুষ। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, ‘সারা দিন মাঠে কাজ করে এসে টিভি দেখার আর তেমন সময় থাকে না। তবে প্রতি মাসে নিয়মিত বিটিভিতে ‘ইত্যাদি’ দেখি। এবার শুনছি আমাদের চুয়াডাঙ্গার গুড় নিয়ে ‘ইত্যাদি’তে দেখানো হবে। ভালো লাগছে ইত্যাদিতে আমাদের জেলা নিয়ে দেখাবে।’ চুয়াডাঙ্গা শহরের শাকিল হোনেন নামের এক শিক্ষার্থী জানান, ‘বর্তমানে পশ্চিমা সংস্কৃতির ভিড়ে আমাদের মিডিয়াগুলো অনেকটা তার ওপর নির্ভর হয়ে পড়েছে। সেখানে ‘ইত্যাদি’ এখন পর্যন্ত সুস্থ সংস্কৃতির ধারা বজায় রেখে চলেছে। বাস্তবতার আলোকে এ অনুষ্ঠান থেকে শিক্ষা নেওয়ারও অনেক কিছু আছে। মা-বাবাসহ পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে দেখা যায় অনুষ্ঠানটি। এবারের ‘ইত্যাদি’তে চুয়াডাঙ্গা নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রচারিত হবে। এটা আমাদের জেলার জন্য একটা ভালো দিক।’ চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক আবু ইয়াজিদ জানান, টেলিভিশন অনুষ্ঠানকে স্টুডিও’র চার দেওয়ালের বাইরে নিয়ে দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতির সন্ধ্যানে কাজ করে ‘টিম ইত্যাদি’। যার নেতৃত্বে থাকেন টিভি ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত। যিনি প্রতিনিয়ত জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র চোখে তুলে ধরছেন বাংলাদেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য। এবার তিনি চুয়াডাঙ্গায় এসেছিলেন। ধারণ করেছেন চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী বিখ্যাত গুড় ও ট্রাফিক সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাসের পাখিপ্রেমের ওপর প্রতিবেদন। ‘ইত্যাদি’র মতো জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা নিয়ে প্রতিবেদন থাকায় দেশবাসী এ জেলা সম্পর্কে জানতে পারবে। ট্রাফিক সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস জানান, পাখির দল তাঁর পরিবারের অন্যতম সদস্যে পরিণত হয়েছে। এখন পেশাগত দায়িত্বের পর নিজের সংসারের মতোই খেয়াল রাখতে হয় পাখিদের। দিনে দু’বার পাখিদের সান্নিধ্য তাঁকে আন্দোলিত করে। পাখিদের প্রতি এ দায়িত্ববোধ উপভোগ করেন তিনি। ‘ইত্যাদি’তে তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ার বিষয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘কখনো ভাবিনি আমাকে নিয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে প্রতিবেদন প্রচারিত হবে। এটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো। এ জন্য আমি শ্রদ্ধেয় হানিফ সংকেত স্যারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এদিকে, ‘ইত্যাদি’র এ পর্বে থাকছে দুটি গান। নৌবাহিনীকে নিয়ে রচিত গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন নৌসদস্য সৌরভ, মেহেদী, পিয়াল ও আনুভা। নৃত্য পরিচালনা করেছেন মনিরুল ইসলাম মুকুল ও মামুন। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার গৌরব নিয়ে আরেকটি দেশের গান গেয়েছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রবি চৌধুরী আর নৌসদস্য লেফটেন্যান্ট সাদিয়া। গানের সঙ্গে যন্ত্রসংগীতে অংশগ্রহণ করেছেন নৌবাহিনীর অর্কেস্ট্রা দল। দুটি গানেরই কথা লিখেছেন গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, সুর করেছেন হানিফ সংকেত, সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদী। আরও থাকছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির ওপর রয়েছে দুটি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। পথশিশুদের নেশা থেকে বাঁচিয়ে জীবনের দিশা দেওয়ার জন্য একটি নৈতিক স্কুল খুলেছেন মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক গাজী সালেহ উদ্দিন। তার ওপর রয়েছে একটি শিক্ষামূলক প্রতিবেদন। থাকছে ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মহেশ্বরচাঁদা গ্রামের হেলালউদ্দিনের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের ওপর প্রতিবেদন। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার হাসান পারভেজ ও তার হাতে লেখা পত্রিকার ওপর রয়েছে একটি হৃদয়স্পর্শী প্রতিবেদন। এ ছাড়া নিয়মিত পর্বগুলো থাকছে। এবারের ইত্যাদিতে অংশ নিয়েছেন এস এম মহসীন, মাসুম আজিজ, সোলায়মান খোকা, আব্দুল আজিজ, জিয়াউল হাসান কিসলু, শবনম পারভীন, কাজী আসাদ, সুভাশিষ ভৌমিক, আমিন আজাদ, জিল্লুর রহমান, বিলু বড়ুয়া, জাহিদ শিকদার, নিপু, নজরুল ইসলাম, তারেক স্বপন, জামিল হোসেন, সজল, সাবরিনা নিসা প্রমুখ। দর্শক পর্বের নিয়ম অনুযায়ী, প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকের মাঝখান থেকে চারজন দর্শক নির্বাচন করা হয়। ২য় পর্বে নির্বাচিত দর্শকরা নাট্যাংশে অভিনয় করেন। নিয়মিত পর্বসহ এবারও রয়েছে বিভিন্ন সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে বেশকিছু সরস অথচ তীক্ষ্ম নাট্যাংশ। নব্বইয়ের দশকে শুরু হওয়া ‘ইত্যাদি’ বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হিসাবে বহু আগেই স্থান করে নিয়েছে। প্রায় ২৭ বছর ধরে বিটিভিতে প্রচারিত হচ্ছে এই ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানটি। এর প্রধান আকর্ষণীয় দিক, সমাজের নানা অসংগতিকে বিদ্রুপ ও রসময় করে উপস্থাপন করা। এছাড়া নানি-নাতির পর্ব এবং বাংলাদেশে বসবাসরত বিদেশিদের নিয়ে একটি বিশেষ পর্ব এর বিশেষ আকর্ষণ। বরাবরের মতো এবারও ইত্যাদি’র শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন মুকিমুল আনোয়ার মুকিম। পরিচালকের সহকারী হিসেবে ছিলেন যথারীতি রানা ও মামুন। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। যথারীতি কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড থাকছে ‘ইত্যাদি’র পৃষ্ঠপোষকতায়।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)