ছবির ক্যাপশন:
প্রতিবেদক, মেহেরপুর:
কৃষকদের চোখে-মুখে ছিল হাসির ঝিলিক। এ বছরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। পেঁয়াজের ভালো দাম নিয়ে স্বপ্নের জাল বুনতে শুরু করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে, কৃষকের স্বপ্ন ততোই ফিকে হয়ে যাচ্ছে। মুখের হাসি মিলিন হয়ে চোখের পানিতে পরিণত হচ্ছে। অনেক কৃষকের জমিতে পেঁয়াজ পরিপক্ক হলেও দাম না থাকায় তা না তুলে জমিতে ফেলে রেখেছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজের দাম ভালো না পাওয়ায় বিঘাপ্রতি জমিতে ২০-২৫ হাজার টাকা লোকশান গুনতে হচ্ছে তাঁদের।
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এ বছর মেহেরপুরে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ করা হয়েছে। খুচরা বাজারে এখন প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ২০-২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গতকাল বুধবার মেহেরপুর বড় বাজার আড়তে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুখসাগর কেজিপ্রতি ৭-৮ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ১৩ থেকে ১৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী প্রতিকেজি পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ ১৭ টাকা ৩৮ পয়সা। ১ একর জমিতে পেঁয়াজ আবাদে খরচ হয় ৯৭ হাজার ৩৮৩ টাকা। প্রতি একরে ৫ হাজার ৬০ কেজির মতো পেঁয়াজ হয়। ট্যারিফ কমিশন প্রতিকেজি পেঁয়াজে কৃষকের মুনাফা ২০ শতাংশ ধরে কাঙ্খিত দর ধরেছে ২১ টাকা। সম্প্রতি ভারতীয় পেঁয়াজ বাংলাদেশে প্রবেশ ও দেশের সব জায়গায় একসঙ্গে পেঁয়াজ উঠাতে দাম কমেছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
মেহেরপুর মুজিবনগর উপজেলার পেঁয়াজের ফড়িয়া ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন বলেন, এখন কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজের দর খুবই কম। তাই কৃষকেরা ব্যাপক লোকসান দিচ্ছেন। মুজিবনগর উপজেলার চাষি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এখন কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজের দর কেজিপ্রতি ১৩ টাকার মতো। তিনি বলেন, এবার পেঁয়াজে ব্যাপক লোকসান। সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, প্রতিবছর তিনি ১৫ থেকে ২০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেন। এবার করেছেন ১০ বিঘা। গত মৌসুমেও লোকসান হয়েছে। মেহেরপুর সদর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের পেয়াজ চাষি সেলিম, আজিজুর, মাবুদ আলী, রাকিবুলসহ বেশ কয়েকজন জানান, সোনাপুর গ্রামের প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষক লাভের আশায় পেঁয়াজ চাষ করেছে। কোনো কোনো কৃষক বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ করেছে পেঁয়াজ চাষের জন্য। পেঁয়াজ বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু টাকা পরিশোধ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই উঠছে না। মেহেরপুর সদর উপজেলার পেঁয়াজ চাষি কবির আলম বলেন, যারা আগাম পেঁয়াজ চাষ করেছেন, তাঁদের লাভ হয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও পেঁয়াজের দাম ভালো ছিল। কিন্তু এখন একেবারেই দাম নেই। এই দামে পেঁয়াজ বিক্রি করলে উৎপাদন খরচের অর্ধেক টাকাও ফেরত পাওয়া যাবে না।
এ বিষয়ে মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি থাকায় দাম একটু কম। এক্ষেত্রে কৃষকরা ৩-৬ মাস ঘরোয়াভাবে বাঁশের আড়ায় ঝুলিয়ে রেখে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারেন। এছাড়া আমরা আশা করছি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি মেহেরপুরের কৃষকদের কথা মাথায় রেখে একটি সংরক্ষণাগার নির্মাণের ব্যবস্থা করবেন। তাহলে চাষিরা যথাসময়ে সেগুলো বিক্রি করে যথাযথ মূল্য পাবেন।’
