ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ প্রতিবেদন:
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন বলেছেন, আগামীতে শিক্ষানগরী এবং শতভাগ শিক্ষিত জেলা হিসেবে বাংলাদেশের মডেল হবে মেহেরপুর। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে শিক্ষাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দিয়েছেন। এ ছাড়াও প্রায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই দৃষ্টি নন্দন ভবন উপহার দিয়েছেন। শিক্ষা খাতে আমরা আর পিছিয়ে থাকব না।’ গতকাল শুক্রবার সকালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ উৎসবে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত শুধু সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে বই দেয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর সরকারি-বেসরকারিসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বছরের প্রথম দিনেই বিনামূল্যে বই তুলে দিচ্ছেন। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এমন নজির নেই।’
জেলা প্রশাসক মুনসুর আলম খানের সভাপতিত্বে বই বিতরণ উৎসবে উপস্থিত ছিলেন- জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহফুজুল হোসেন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফজলে রহমান। এ বছর প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কারিগরি মিলে মেহেরপুর জেলায় মোট ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৪টি বই বিতরণ করা হবে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের একাংশের হাতে বই তুলে দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ১৬৮টি মাধ্যমিক, কারিগরি, মাদরাসা ও ২৮০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া হবে। এ দিকে করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে নতুন বছরে স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তির লটারি নতুন সূচি অনুযায়ী আগামী ১১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি ৩০ ডিসেম্বর হওয়ার কথা থাকলেও তাতে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর থেকে গত বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কোভিড-১৯ ভাইরাসজনিত মহামারী পরিস্থিতিতে এ বছর স্কুলে ভর্তির জন্য তিনটি বিকল্প পদ্ধতি চিন্তা করা হয়েছিল। তার মধ্যে প্রথমটি আগের মতো শিক্ষার্থীদের স্কুলে এনে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া বা এমসিকিউ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা। দ্বিতীয়টি ছিল অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা এবং তৃতীয়টি পরীক্ষা বাতিল করে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়া। শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সারা দেশের সরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত ভর্তির জন্য পরীক্ষা না নিয়ে ডিজিটাল লটারি করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আবেদনে যেসব শর্তারোপ করা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে এখানে হস্তক্ষেপ করে হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় নির্ধারিত ডিজিটাল লটারির অনুষ্ঠান স্থগিতের পাশাপাশি আবেদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এসেছে। ইতিপূর্বে বয়সের কারণে আবেদন করতে না পারা শিক্ষার্থীরা এখন আবেদন করতে পারবে বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর। সম্প্রতি ভর্তিসংক্রান্ত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছিলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের স্কুলে এনে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব নয়। আর অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষার জন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা কঠিন বলে বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে লটারির মাধ্যমে ভর্তি নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ শিশুদের ভর্তির জন্য এবার আগের মতো ৪০ শতাংশ ক্যাচমেন্ট এরিয়া (এলাকা কোটা) পরিবর্তন করে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। আর আগে ক্লাস্টার-ভিত্তিক একটি স্কুলে আবেদন করার সুযোগ থাকলেও এবার পাঁচটি করে পছন্দের স্কুল নির্বাচন করা যাবে।
