ছবির ক্যাপশন:
মুজিবনগর অফিস:
সাত বছর আগে দুই পরিবারের সম্মতিতে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক বিয়ে হয়েছিল তাঁদের। বিয়ে কয়েক বছর পর মহিদুল-খাদিজা দম্পতির কোল জুড়ে আসে ফুটফুটে একটা কন্যা সন্তান। অভাবের তাড়নায় কোনো রকমে সংসার চলছিল তাঁদের। কিন্তু অভাবের মধ্যেই স্ত্রী খাদিজার নামে একটি এনজিও থেকে ঋণ উত্তোলন করেন স্বামী মহিদুল। স্ত্রীর নামে উত্তোলনকৃত টাকা নিয়ে মহিদুল সংসারের কাজে না লাগিয়ে নিজের মতো খরচ করেছিলেন। এ ঋণের টাকা পরিশোধ করা নিয়ে এনজিও কর্মীদের কাছে নানা কথা শুনতে হতো খাদিজাকে। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া বিবাধ লেগেই থাকতো। যা দুই বছর পূর্বে বিবাহ বিচ্ছেদে রুপ নেয়। মহিদুল ইসলাম মুজিবনগর উপজেলার মানিকনগর গ্রামের হাসর আলীর হাসুর ছেলে ও তাঁর স্ত্রী খাদিজা খাতুন একই উপজেলার বাগোয়ান গ্রামের মিলাম হোসেনের মেয়ে।
জানা যায়, তাদের পূণরায় সংসার জোড়া লাগানোর জন্য একাধিক সালিস হলেও সমাধান হয়নি। পরে বিষয়টি আমলে নেয় মুজিবনগর থানা নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক। সার্ভিস ডেস্ক দুজনের ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার আবার সালিস বৈঠকের আয়োজন করে। অবশেষে এ ডেস্ক দু’জনের সম্মতিক্রমে হারানো সংসার জোড়া লাগায়।
মুজিবনগর থানার ওসি আব্দুল হাশেম জানান, মহিদুল ও খাদিজার সংসার পূণরায় জোড়া লাগায় তাঁদের কন্যা সন্তানটি তাঁর বাবা-মায়ের আদর ফিরে পেল। তাঁদের সংসার এবং সন্তানের কষ্টের কথা মাথায় রেখেই ভাঙ্গা সংসার জোড়া লাগানো সম্ভব হয়েছে। এদিকে, এমন মহতি কাজের জন্য মুজিবনগর থানার ওসি মানবতার প্রতীক আব্দুল হাশেমসহ মুজিবনগর থানা নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্কের সকল সদস্যেদের অভিনন্দন জানিয়েছে এলাকাবাসি।
