প্রতিবেদক, তিতুদাহ:
চুয়াডাঙ্গার গহেরপুর খাল পাড়ায় দুটি বাড়ির গেটে চাঁদা দাবি করে রাতের আধারে চিরকুট বাড়ির সামনে রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্কে পড়েছে তিনটি অসহায় পরিবার। দুটি বাড়িতে ৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবির চিরকুট দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন গ্রামবাসী। বিষয়টি দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাব্বুর রহমান কাজল জানতে পেরে দ্রুত তিতুদহ ক্যাম্প ইনচার্জ এএসআই ফারুক হোসেনকে পাঠায় এবং ক্যাম্প ইনচার্জ দুটি হুমকিপত্র ও পাথর আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করেন।
জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে খাল পাড়ায় স্বর্গীয় শুনিল ঘোষের ছেলে উত্তম ঘোষ ও শুশিল ঘোষ এবং একই পাড়ার আবু বক্করের ছেলে নাজমুলের বাড়িতে চুরিসহ নানা ধরণের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এবিষয়ে উত্তম ঘোষ বলেন, আমরা গরীব মানুষ এবং হিন্দু হওয়ায় আমরা কারও কাছে যেতে ভয় পায়। গত এক সপ্তাহ আগে সন্ধ্যা সাতটা ও একই রাতে ১০টা পনেরো মিনিটে আমার বসত ঘরের টিনসহ বাড়ির বিভিন্ন জায়গাতে রেল লাইনের পাথর নিক্ষেপ করে। কিন্তু আমরা ভয়ে কাউকে কিছু বলিনি। তবে আজ (গতকাল) সকালে বাড়ির গেটে চাঁদা দাবির চিঠি দেখে ভয়ে রাতে বাড়িতে থাকার সাহস পাচ্ছি না। এবিষয়ে নাজমুল বলেন, পাথর নিক্ষেপের পর চিঠি দেখে পুলিশকে বলি এবং আইনের আশ্রয় পার্থনা করেছি।
সরোজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ির গেটে কাগজে লেখা রয়েছে আজ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে শুশিল ও উত্তম ৪ লক্ষ টাকা দিতে হবে না হলে প্রথমবার পাথর পড়েছে এবার বোম পড়বে এবং বাচ্চা অপহরণ হবে। একই ভাবে নাজমুলের কাছে, ২ লক্ষ টাকা না দিলে উঠিয়ে নেবার হুমকি ও রাত ১২ টার সময় সুজায়েতপুর গ্রামের খইনিতলা মাঠের মধ্যে টাকা নিয়ে দেখা করতে লেখা আছে। এছাড়াও প্রশাসনের কাছে গেলে খবর আছে বলেও হুমকিতে লেখা আছে।
এবিষয়ে ক্যাম্প ইনচার্জ এএসআই ফারুক হোসেন বলেন, রাতের আঁধারে কে বা কারা এই চিঠি আঠা দিয়ে লাগিয়ে গেছে। আমরা তদন্ত করছি। পুলিশের কার্যক্রম আরও তৎপর হবে।
