ছবির ক্যাপশন:
দর্শনা অফিস:
কেরুজ কৃষি বিভাগের পরিবহন শাখার স্থায়ী ট্রেইলার ফিটার হেলপার ইয়াসির আরাফাত মিলনকে বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট বিভাগ কর্তৃক সূত্র নম্বর কেরু/সংস্থা/পিএফ/পরিবহন/৩৪২৬ একটি নোটিশ চাকরিরত বিভাগে এসে পৌঁছে। নোটিশে উল্লেখ রয়েছে, ‘আপনার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকায় আপনাকে চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। আপনার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ আপনাকে পরে জানানো হবে। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে প্রতি কার্য দিবসে মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) দপ্তরে নিজ হাজিরা প্রদান এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতি রেখে বিভাগ ত্যাগ না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে আপনি নিয়ম অনুযায়ী শুধুমাত্র জীবিকা ভাতা (সাবসিসট্যান্স অ্যালাইন্স) পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।’
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, কেরুজ সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মৃত আ. রহমানের ছেলে ইয়াসির আরাফাত মিলন কৃষি বিভাগের পরিবহন শাখায় চাকরিতে ছিলেন ব্যাপক অমনোযোগী। মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও বড় সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় কাউকে না বলেই কাজের সময় কর্মস্থল ত্যাগ করে নিজের ব্যক্তিগত কাজ সারতেন। কাউকে তোয়াক্কা না করেই ইচ্ছামত ছুটি কাটাতেন। কর্তৃপক্ষ যখনই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যেত, তখনই কোনো না কোনো চিকিৎসক দিয়ে মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করে তড়িঘড়ি জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে কয়েকদিন আগে থেকেই কেরুজ চিনিকল মাড়াই মৌসুম শুরু হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের চাকরি সংরক্ষনের দাবি তুলে বিভিন্ন সময় আন্দোলন ও মানববন্ধন পরিচালনা করে আসছিলেন। এসময়ের মধ্যে কেরুজ ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ পাঁচ মহাব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে ইয়াসির আরাফাত মিলন বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকাশ্যে জীবননাশের হুমকির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়ে দর্শনাসহ দেশের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় দর্শনায় কেরু আঙিনাসহ বিভিন্ন স্থানে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। এ বিষয়ে অনেক চেষ্টা করেও ইয়াসির আরাফাত মিলনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান কাজল জানায়, কেরুজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেওয়ায় ইয়াসির আরাফাত মিলনের বিরুদ্ধে একটি জিডি করেছে।
কেরুজ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, শুধুমাত্র চাকরিতে অনিয়মের কারণে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাছাড়া তাঁর কর্মরত বিভাগ একজনের অনিয়মের দ্বারা অন্যরা প্রভাবিত হোক তা মেনে নেওয়া যাবে না। সাময়িক বরখাস্তের সাথে আন্দোলনের কোনো সম্পৃক্তা নেয়। আন্দোলনের বক্তব্যে সে যে কর্তৃপক্ষকে প্রকাশ্যে হুমকি-ধামকি দিয়েছে, তা আইনগতভাবেই মোকাবিলা করা হবে।
