ছবির ক্যাপশন:
স্বেচ্ছায় ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দেওয়া জিয়া পাচ্ছেন দুর্যোগ সহনশীল পাকা ঘর
প্রতিবেদক, হিজলগাড়ী:
তিতুদহের বড়শলুয়া গ্রামের স্বেচ্ছায় ভিক্ষা পেশা ছেড়ে দেওয়া আংশিক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জিয়াউর রহমানের থাকার জন্য একটি পাকাঘর নির্মাণ করে দেওয়ার লক্ষে তাঁর বাড়ির জায়গা পরিদর্শন করেছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল কালাম আজাদ ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের নিদের্শনা মোতাবেক নতুন ঘরের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্ধোধন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের বড়শলুয়া গ্রামের আকবার আলীর ছেলে প্রতিবন্ধী জিয়াউর রহমান জন্মগতভাবেই আংশিক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়ায় পেশা হিসাবে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ে। পরে হিজলগাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি আরিফ হাসান ও তরুণ সমাজসেবক শামীম হোসেন মিজি তাঁর সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। জিয়ার ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে বাদামের ব্যবসা করার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও মূলধন প্রদান করেন তাঁরা। বিষয়টি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকারের নজরে পড়লে তিনি ভিক্ষুক জিয়াকে ব্যবসা করার জন্য নগদ ১৫ হাজার টাকা দেন এবং একটি দুর্যোগ সহনশীল পাকাঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। সেই প্রতিশ্রুতির আলোকেই গতকাল জিয়াউর রহমানের জন্য যেখানে ঘর নির্মাণ করা হবে, সেই জমি সরেজমিনে পরিদর্শনে আসেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল কালাম আজাদ ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জিয়াউর রহমান, তিতুদহ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মাহাতাব উদ্দিন, সমাজসেবক শামীম হোসেন মিজি, শিক্ষক আবুল কাশেমসহ স্থানীয়রা। নিজবাড়িতে উপসচিব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন জিয়া।
এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ভিক্ষা পেশা থেকে স্বেচ্ছায় ফিরে আসতে চাওয়া জিয়াউর রহমানের জন্য একটি ঘর নির্মাণের জন্য খাদ্য মন্ত্রণলয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমের দৃষ্টিগোচর করলে খাদ্য সচিব স্পেশালভাবে এই ঘরটি নির্মাণের জন্য ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলার মাননীয় জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে দুই রুমের পাকাঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এই সপ্তাহের মধ্যেই জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে ভিত্তিপ্রস্তরের দিনক্ষণ ঠিক করা হবে।
