কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় চার মাদ্রাসাছাত্র গ্রেপ্তার

আপলোড তারিখঃ 2020-12-07 ইং
কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় চার মাদ্রাসাছাত্র গ্রেপ্তার ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ প্রতিবেদন: অবশেষে ধরা পড়েছে কুষ্টিয়ায় বহুল আলোচিত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার সঙ্গে জড়িত চারজন। সিসিটিভি ফুটেজ দেখেই ভাস্কর্য ভাঙায় অংশ নেওয়া স্থানীয় ইবনে মাসউদ (রা.) নামের মাদরাসার দুই ছাত্র আবু বক্কর মিঠুন (১৯), নাহিদুল ইসলাম নাহিদ (২০)-কে শনাক্তের পর তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই মাদরাসারই শিক্ষক আল আমিন ও ইউসুফ আলীকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এসব তথ্য জানান। পরে কুষ্টিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলন করে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিনও বিস্তারিত প্রকাশ করেন। এর বাইরে ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনায় রাজধানীসহ সারা দেশে প্রতিবাদ সভা করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন। সিসিটিভি ফুটেজের বর্ণনা দিয়ে ডিআইজি মহিদ উদ্দিন বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার পরপর তারা মই বেয়ে ওঠে ভাস্কর্য বেদির ওপর। ভাঙচুর শেষে নিরাপদে চলে যায়। গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। তবে মাওলানা মামুনুল ও ফয়জুল করিমের বক্তব্য শুনে তারা এ কাজে উদ্বুদ্ধ হন। মাদরাসা থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার পথ হেঁটে এসে একজনের কাছে থাকা ব্যাগ থেকে হাতুড়ি বের করে ভাস্কর্যে ভাঙচুর চালায়। তদন্ত সূত্র বলছে, সর্বশেষ গত শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবায় ভাস্কর্যবিরোধী খুতবা শোনার পরই মিঠুন এবং নাহিদ ভাস্কর্য ভাঙার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মাওলানা ফয়জুল করিম এবং মাওলানা মামুনুল হকের বয়ান শুনেই ভাস্কর্য ধ্বংসের বিষয়ে অনুপ্রাণিত হয়। পরে এই দুই ছাত্র তাদের শিক্ষকদের কাছে পরামর্শ চায়। তাদের মাদরাসায় নির্মাণকাজ চলছে। সেখান থেকেই দুটি হাতুড়ি সংগ্রহ করে তারা ভাস্কর্য ভাঙার কাজে লাগায়। রাত দেড়টার দিকে নাহিদ এবং মিঠুন ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে সুযোগ বুঝে হামলে পড়ে ভাস্কর্য ভাঙার মিশনে। মিশন শেষ করে শিক্ষক আল আমিন এবং ইউসুফ আলীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী গা-ঢাকা দেয়। নাহিদকে দৌলতপুরের গহিন চরাঞ্চল থেকে গ্রেফতার করা হয়। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভির আরাফাত বলেন, গ্রেফতারকৃত দুই ছাত্রকে ১০ দিন এবং দুই মাদরাসা শিক্ষককে সাত দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত মিঠুন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার শিংপুর গ্রামের সমশের মৃধার ছেলে। আর নাহিদ দৌলতপুর উপজেলার গোলাবড়িয়া গ্রামের শামসুল আলমের ছেলে। শিক্ষকদের মধ্যে ইউসুফ আলী পাবনার দিয়াড় বামুন্দি গ্রামের আজিজুল মন্ডলের ছেলে এবং আল আমিন কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার ধুবইল গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)