নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাইদঘাটে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের এক কলেজছাত্রের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গ্রামের অদূরে একটি লিচু বাগানে এ বলাৎকারের ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার শিকার স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিশুর পরিবার চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি মামলা করেছে। গতকালই চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। অভিযুক্ত মুস্তারিক রিকু সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের গাইদঘাট গ্রামের মাঝেরপাড়ার মুহুরী আব্দুস সালামের ছেলে এবং দামুড়হুদার আ. ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের ছাত্র।
এদিকে, গতকাল ঘটনার পর শিশুটির পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানাতে অভিযুক্ত কলেজছাত্রের বাড়িতে গেলে তাঁরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদেরকে হামলার ভয় দেখানো এবং ঘটনা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত মুস্তারিক ওরফে রিকু ও তার বাবা আব্দুস সালাম মুহুরী বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
শিশুটি অভিযোগ করে বলে, ‘সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আমি গাইদঘাট গ্রামের সেলিম মিয়ার ইটভাটায়র নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে ইটভাটার পাশেই একটি পুকুরের নিকট রিকু আমার হাত ধরে টানাহেঁচরা শুরু করে। একপর্যায়ে সে আমাকে মারধর করে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়। এ সময় আমি চিৎকার করলে পরে সে আমাকে দুটো ৫ শ টাকার নোট দিয়ে চিৎকার করতে নিষেধ করে। একপর্যায়ে ইটভাটার পাশের একটি লিচু বাগানে নিয়ে আমাকে জোরপূর্বক বলাৎকার করে। পরে আমি যন্ত্রনায় চিৎকার করলে সে আমকে ধামকি দিয়ে কাউকে কিছু না বলার শর্তে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।’
ভুক্তভোগী শিশুটির নানি বলেন, তাঁর নাতি কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে এসে তাঁকে সব ঘটনা খুলে বলে ও অভিযুক্তের বর্ণনা দেয়। সেই অনুপাতে শিশুটির বাবা তাঁর সাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত কলেজছাত্র রিকুকে চিনে ফেলে। পরে বলাৎকারে শিকার ওই শিশুর পরিবারের লোকজন এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে রিকুসহ তার পরিবারের লোকজন তাঁদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ভয় দেখায়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা ওই স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত রিকুকে বাঁচাতে এলাকার একটি মহল দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছে। ওই মহলটি বিভিন্ন স্থানে তৎপরতা চালাচ্ছে। বিষয়টি স্কুলছাত্রের পরিবারকে হুমকি-ধামকি দিয়ে টাকার বিনিময়ে মীমাংশারও চেষ্টা চালাচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সোহানা আহমেদ জানান, পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্কুলছাত্রকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. সাজিদ হাসান বলেন, শিশুটিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে তিন সদস্যের মেডিক্যাল টিম গঠন করে শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ খান বলেন, এ ঘটনায় স্কুলছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে ধরতে ইতোমধ্যে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
