ছবির ক্যাপশন:
জয়রামপুরের স্বাধীনের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, দামুড়হুদা:
দামুড়হুদায় সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্রীর দায়ের করা ধর্ষণ চেষ্টা মামলা থেকে বাঁচতে অবশেষে দুই পরিবারের সমঝোতায় হলো বাল্যবিবাহ। এই বাল্যবিবাহটি কুতুব উদ্দিন নামের এক কাজী সম্পন্ন করান। গত শুক্রবার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের মাঠপাড়ার ডাবুর ছেলে স্বাধীনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ তুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রী থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এরই প্রেক্ষিতে ওইদিনই রাতেই অর্থাৎ শুক্রবার রাতেই অভিযুক্ত স্বাধীনকে আটক করতে পুলিশ অভিযান চালায়। এসময় স্বাধীনকে খুঁজে না পেয়ে তার মা, প্রতিবন্ধী পিতা এবং তার বাড়িতে বেড়াতে আসা বোন ও বোনের দেড় বছর বয়সের শিশুকে থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরদিন মানে গতকাল শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যদেরকে ছাড়াতে স্বাধীন নিজেই থানায় উপস্থিত হয়। এসময় দামুড়হুদা থানা-পুলিশ স্বাধীনের পরিবারের সদস্যদেরকে ছেড়ে দিয়ে তাঁকে আটক করে।
জানা যায়, ঝিনাইদহের মধুপুর গ্রামের জনৈক ব্যক্তির মেয়ে দামুড়হুদার জয়রামপুর মাঠপাড়ার মামার বাড়ীতে থেকে লেখাপড়া করে। স্কুলে যাওয়া আসার পথে বছর খানেক আগে থেকেই স্বাধীন ওই স্কুলছাত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই স্কুলছাত্রী পার্শবর্তী একটি দোকান থেকে চকলেট কিনে বাড়ি ফেরার ফিরছিল। পথিমধ্যে একই গ্রামের সুবারেকের ছেলে রাহুলের বাড়ীর সামনে পৌঁছালে স্বাধীন ওই স্কুলছাত্রীকে জাপটে ধরে জোরপূর্বক রাহুলের ফাঁকা বাড়ীতে নিয়ে বন্ধু রাহুল (২০) ও শাকিল (২২)-এর সহযোগিতায় ধর্ষণ চেষ্টা করে। এসময় স্বাধীনের হাত থেকে রক্ষা পেতে ওই স্কুলছাত্রী চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা ছুটে এসে স্কুলছাত্রীটিকে উদ্ধার করে। তবে এর আগে স্বাধীন তার দুই বন্ধু নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর ঘটনাটি পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সালিশের আয়োজন করে এবং ভুক্তভোগী পরিবার নানা আশ্বাস প্রদান করে। অথচ ঘটনার একদিন পার হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় ওই প্রভাবশালী মহলটি। পরে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে দামুড়হাদা মডেল থানায় অভিযুক্ত স্বাধীন ও তাঁর দুই বন্ধুর নামে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের পর এসআই বাকী বিল্লাহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে স্বাধীনকে না পেয়ে অভিযুক্ত স্বাধীনের পরিবারের চারজনকে থানা হেফাজতে নেয়। পরদিন স্বাধীন থানায় উপস্থিত হলে তার পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তাকে আটক করা হয়। এদিকে, আটকের কিছু সময়ের মধ্যে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগকারী ওই স্কুলছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে স্বাধীনের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগটি তুলে নেয়। এর কিছু পরেই পুলিশ স্বাধীনকেও ছেড়ে দেয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় স্বাধীন থানা থেকে মুক্ত হয়ে অভিযোগকারী ওই স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিবাহ করেছেন। আর এতে স্বাধীন এবং অভিযোগকারী স্কুলছাত্রীর পরিবারের মত নাকি আছে। এছাড়া সালিশের আয়োজন করা স্থানীয় প্রভাবশালী মহলটি নাকি এর কলকাঠি নেড়েছে। আর বাল্যবিবাহটি দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ড মসজিদের পিছনের একটি বাড়িতে নিয়ে পড়িয়েছেন কুতুব উদ্দিন নামের একজন কাজী। এই কাজির নামে পূর্বেও বাল্যবিবাহ পড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তিনি এর আগেও বাল্যবিবাহ পড়ানোর অভিযোগ জেল খেটেছেন।
এবিষয়ে কাজী কুতুব উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বাল্যবিবাহের বিষয়টি অস্বীকার করেননি এবং তিনি কিছুই জানেন না বলেও জানান।
দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় গত শুক্রবার ওই স্কুলছাত্রীসহ তার পরিবারের সদস্যরা ধর্ষণ চেষ্টার একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের তদন্তে অভিযানে গেলে স্বাধীনকে না পেলে তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। পরদিন শনিবার সকালে স্বাধীন থানায় উপস্থিত হলে তার পরিবারের সদস্যদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং স্বাধীনকে থানায় রাখা হয়। অথচ এর কিছুক্ষণ পরেই অভিযোগকারী ওই স্কুলছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা থানায় স্বাধীনের বিরুদ্ধে মামলা করে উল্টো তাদের দায়ের করা অভিযোগটিও তুলে নেয়। তাই আমরা বাধ্য হয়ে স্বাধীনকে ছেড়ে দিই।’ নাবালিকা স্কুলছাত্রীর সঙ্গে অভিযুক্ত স্বাধীনের বাল্যবিবাহের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল মামুন কিছুই জানেন না বলেও জানান।
