ছবির ক্যাপশন:
রুদ্র রাসেল:
চুয়াডাঙ্গায় জ্ঞানের আলো নিয়ে পাঠকের দোরগড়ায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ‘ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি’। পাঠক যাতে সহজেই বই পড়তে পারে সেজন্য এ ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। সপ্তাহে ৬দিন বই ভর্তি এই গাড়িটি জেলার বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে যায়। নির্ধারিত স্থানে পাঠকেরা গাড়ি আসার অপেক্ষায়ও থাকেন। কখন গাড়ি আসবে, আর পুরান বই জমা দিয়ে নতুন বই সংগ্রহ করবেন তাঁরা। শুধু শিক্ষার্থীই নয়, এই ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির পাঠক তালিকায় আছেন চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, গৃহিণীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
জানা যায়, ২০০৭ সাল থেকে ঝিনাইদহ ইউনিটের ‘ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি’র একটি গাড়ি সপ্তাহে একদিন চুয়াডাঙ্গা শহরে প্রথম যাত্রা শুরু করে আলোকিত মানুষের সন্ধানে। ২০১৯ সালের জুলাই মাস থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিটের যাত্রা শুরু হলে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকা, আলমডাঙ্গা, দর্শনা, জীবননগরসহ জেলার মোট ৪৫টি স্পটের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির এই গাড়িটি নানা-রকম বই নিয়ে পাঠকের সামনে উপস্থিত হয়।
কথা হয় চুয়াডাঙ্গা চাঁদমারী মাঠ সংলগ্ন এলাকার ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির শিশুপাঠক তামিম হুসাইনের সঙ্গে। সে বলে, এই ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিটি আমার খুব প্রিয়। লাইব্রেরিটি আমার বাসার কাছে আসায় আমাকে অন্য কোথাও যেতে হয় না। আমি এখান থেকে বই নিয়ে বাসায় বসে পড়তে পারি। লাইব্রেরিতে শিশু কিশোরদের জন্য শিশুতোষসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই আছে। এসব বই পড়ে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নানা বিষয়ে জ্ঞানার্জন করছি।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চুয়াডাঙ্গা ইউনিট ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কর্মকর্তা দিপংকর চক্রবর্তী বলেন, শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার মধ্যেই কৌতূহল আছে এ লাইব্রেরি নিয়ে। যে কেউ এসেই এখান থেকে বই নিয়ে পড়তে পারবে। সিডিউল অনুযায়ী বিভিন্ন স্পটে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির গাড়িটি যায় এবং এক ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে। এ সময়ে লাইব্রেরির সদস্যরা লাইব্রেবি থেকে বই ধার নেন। লাইব্রেরিটির প্রায় ৩ হাজার বইয়ের মধ্য থেকে নিজের পছন্দের বই খুঁজে বের করে কার্ডের মাধ্যমে বই ইস্যু করা হয় এক সপ্তাহের জন্য। এক সপ্তাহে পর বইটি পড়ে শেষ করতে না পারলে পরের সপ্তাহের জন্য ইস্যু করা বই রিনিউ করে নেওয়ারও ব্যবস্থা আছে।
লাইব্রেরির সদস্য হওয়ার নিয়ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা দুই ধরণের সদস্যপদ দিয়ে থাকি। একটি সাধারণ এবং অন্যটি বিশেষ। সাধারণ সদস্য হতে ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা অর্থ বাবদ ১০০ টাকা আর বিশেষ সদস্য হতে লাগে ২০০ টাকা। এছাড়া সদস্যদের বই রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ মাসিক ১০ টাকা ফি দিতে হয়। সাধারণ সদস্যরা অনধিক ১৫০ টাকা ও বিশেষ সদস্যরা অনধিক ২৫০ টাকা মূল্যের একটি করে বই বাসায় নিয়ে গিয়ে পড়ার সুযোগ পান।
উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা শহরে একটি সরকারি গ্রন্থগার থাকলেও গ্রন্থগারটিতে বই পরুয়া ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা বা অনেকেই প্রতিদিন যেতে পারে না। তাই বইপাগল মানুষের একমাত্র ভরসা বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ‘ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি’। প্রতি শুক্রবার, শনিবার এবং বুধবার শহরের নির্দিষ্ট ২১টি স্থানে এসে দাঁড়ায় বইয়ের গাড়ি। গাড়িতে থাকে প্রায় তিন হাজারটি বই। এর মধ্যে রয়েছে প্রবন্ধ, উপন্যাস, আত্মজীবনী, ইতিহাস, কবিতা, সাইন্স ফিকশন, অনুবাদ, ভাষা, মুক্তিযুদ্ধ, শিশু-কিশোর সাহিত্য, ভ্রমণ কাহিনীসহ ধর্মীয় বই। শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল কর্মসূচির বইও আছে। গাড়িটি প্রতিটি স্থানে অবস্থান করে এক ঘণ্টা। কোনো পাঠক যদি আগের সপ্তাহের বই পড়ে শেষ করতে না পারেন তবে ওই বইটি নবায়ন (রিন্যু) করে নিতেও পারেন।
