বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত !

আপলোড তারিখঃ 2020-10-19 ইং
বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত ! ছবির ক্যাপশন:
দামুড়হুদা সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে ঢুকে গরু পাচারকালে বিপত্তি মরদেহ আনতে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে ৬ বিজিবির প্রতিবাদ দর্শনা অফিস: দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের ঠাকুরপুর সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে গরু আনতে যেয়ে বিএসএফের গুলিতে ওমিদুল ইসলাম (১৯) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছে। গতকাল রোববার ভোর চারটার দিকে ঠাকুরপুর সীমান্তের ভারতীয় হুদাপাড়া-রাঙ্গিয়ারপোতা ক্যাম্পের মাঝামাঝি স্থানে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত ওমিদুল ইসলাম উপজেলার ঠাকুরপুর গ্রামের শেষপাড়ার পাখিভ্যান চালক শহিদুল ইসলামের কনিষ্ঠ পুত্র। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার চোরাচালানের গডফাদার ঠাকুরপুর গ্রামের মাঝপাড়ার আব্বাস আলীর ছেলে তাজমুল হক ১৫ থেকে ২০ জনকে নিয়ে অবৈধভাবে ভারতের অভ্যান্তরে হুদাপাড়ায় যায় একটি গরুর চালান আনতে। ভোরের দিকে গরু নিয়ে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশের ভিতরে প্রবেশ করলে ভারতীয় সীমান্তের হুদাপাড়া-রাঙ্গিয়ারপোতা ক্যাম্পের একটি টহল দল চোরাচালানীদের দেখে ফেলে। পরে ধাওয়া করে ঠাকুরপুর সীমান্তের ৮৯ নম্বর মেইন খুঁটির নিকট পৌছালে বিএসএফ চোরাচালানীদের লক্ষ করে গুলি ছোড়ে। গুলির আঘাতে ওমিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে নিহত হয়। এসময় চোরাচালানীদের বেশিরভাগ পালিয়ে আসলেও কয়েকজন ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে আটকা পড়া বলে গ্রামবাসী খবর পায়। তবে নিশ্চিত করে কেউ-ই বলতে পারেনি কারা আটকা পড়েছে। পরে ভোরের দিকে সীমান্তে গোলাগুলি হওয়ায় ঠাকুরপুর বিজিবি ক্যাম্পের একটি টহলদলের নিকট ঘটনার বর্ননা দিয়ে বিএসএফ একটি গুলিবিদ্ধ লাশের ছবি পাঠায়। লাশের ছবিটি বিজিবি ঠাকুরপুর গ্রামবাসীকে দেখালে গুলিবিদ্ধ লাশটি ওমিদুলের বলে নিশ্চিত করেন গ্রামবাসী ও তার পরিবারের সদস্যরা। নিহত ওমিদুল শ্রমিক হিসেবে সীমান্তে গরু আনতে গিয়েছিল স্থানীয়রা এসময় জানায়। ওমিদুলের পিতা শহিদুল ইসলাম জানান, ‘আমার ছেলে রাজমিস্ত্রির শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। সারাদিন পরিশ্রম করে বাড়িতে আসে ও পাশের একটি কম্পিউটারের দোকানে মোবাইলে গান লোড করার কাজে সময় ব্যয় করে। সে গরু ব্যবসায়ী নয়। হয়তো কারও প্রলোভনে পড়ে গতকালই সীমান্তে গিয়েছিল।’ নিহতের মা জানান, ‘সে শ্রমিকের কাজ করে বাড়িতে আসে এবং সন্ধ্যার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে অনেক রাতে বাড়িতে ফেরে। গতকাল আমি ঘুমিয়ে পড়ি। ভোরের দিকে হঠাৎ করে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পায়। আমার বড় ছেলেকে গুলির শব্দের কথা বললে সে জানায়, পূজা উপলক্ষে ভারতে পটকা ফোটাচ্ছে হয়ত। ভোরের নামাজ পড়তে উঠে দেখি আমার ছোট ছেলে ওমিদুল ঘরে নেই। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সকাল ৭টার দিকে খবর পায় ওমিদুল বিএসএফ-এর গুলিতে নিহত হয়েছে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, ‘কে কখন কি করছে তা বোঝা সত্যিই খুব কঠিন। ওমিদুলকে আমরা দেখেছি দিনের বেলায় রাজমিস্ত্রির শ্রমিকের কাজ করতে। এখন নিহত হওয়ার পর শুনছি সে নাকি চোরাকারবারি। সীমান্তে যেত অবৈধ মালামাল আনতে। তবে এ ধরণের অনেকেই হয়তো ওমিদুলের মত দিনের বেলায় এক কাজ করে আর রাতের বেলায় চোরাচালান।’ এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা- ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান পিএসসি জানান, ‘দীর্ঘদিন পর ৬-বিজিবির আওতাধীন সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটল। এ ধরণের সীমান্ত হত্যার ঘটনা আসলেও কারও কাম্য নয়। সত্যিই দুঃখজনক ঘটনা।’ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি আরও জানান, ‘রোববার ভোরের দিকে বিজিবির একটি টহল দলের সদস্যরা চুয়াডাঙ্গার ঠাকুরপুর সীমান্তের ৮৯ নম্বর মেইন খুঁটির কাছে গুলির শব্দ শুনতে পেয়ে তাদের টহল জোরদার করে। সকালে ওই সীমান্ত খুঁটির কাছে বিজিবি সদস্যরা ভারতের মালুয়াপাড়া বিএসএফ ক্যাম্প কমান্ডেন্টের গাড়ীসহ একটি অ্যাম্বুলেন্স দেখতে পায়। তার কিছুক্ষণপর বিএসএফ সদস্যরা ভারতের অভ্যন্তর থেকে মোবাইল ফোনে গুলিতে নিহত যুবকের ছবি তুলে সেটা বিজিবির কাছে পাঠায়। বিজিবি ওই ছবি ঠাকুরপুর গ্রামবাসীদের দেখালে নিহত ওমিদুলের বাবা সেটা তার ছেলে বলে নিশ্চিত করেন। ছবি ও মেইলের মাধ্যমে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সদস্যরা জানায়, নিহত ব্যক্তি অবৈধভাবে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বিএসএফ সদস্যদের চ্যালেঞ্জ করে। ওই সময় বিএসএফ গুলি ছুড়লে সে নিহত হয়। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফ মালুয়াপাড়া বরাবর প্রতিবাদপত্র ও পতাকা বৈঠকের জন্য আহবান জানানো হয়েছে।’ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ওমিদুলের লাশ ফেরত পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান। এসংবাদ লেখা পর্যন্ত পতাকা বৈঠকের বিষয়ে বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পায়নি বিজিবি। তবে, আশা করা হচ্ছে যেকোনো সময় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ ওমিদুলের লাশ ফেরত দিতে পারে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)