দুর্গোৎসব পালনে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

আপলোড তারিখঃ 2020-10-19 ইং
দুর্গোৎসব পালনে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ছবির ক্যাপশন:
কয়েকদিন পর শারদীয় দুর্গাপূজা : করোনায় কমেছে মণ্ডপের সংখ্যা মেহেরাব্বিন সানভী/রুদ্র রাসেল: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হতে কয়েকদিন মাত্র বাকী। পূজাকে আরও উৎসবমুখর করতে চুয়াডাঙ্গার মণ্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। দেবী দুর্গাকে সাজাতে রাত-দিন ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। তবে এবার করোনাভাইরাসের কারণে দুর্গোৎসবের চিরপরিচিত আমেজ থাকছে না। উৎসবের সব ক্ষেত্রেই থাকছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কড়া নির্দেশনা। গতবারের তুলনায় এবার কমেছে মণ্ডপের সংখ্যাও। গত বছর জেলায় ১১৬টি মণ্ডপে পূজা হলেও এবার ১০৮টি মণ্ডপে পূজা হবে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার মহালয়া হয়েছে ১৭ সেপ্টেম্বর। কিন্তু পঞ্জিকার হিসেবে এবার আশ্বিন মাস ‘মল মাস’, মানে অশুভ মাস। সে কারণে এবার আশ্বিনে দেবীর পূজা হবে না। পূজা হবে কার্তিক মাসে। সেই হিসেবে এবার দেবী দুর্গা ‘মর্ত্যে আসবেন’ মহালয়ার ৩৫দিন পরে। তাই আগামী ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠী তিথিতে হবে বোধন। পরদিন সপ্তমী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গোৎসবের মূল আচার অনুষ্ঠান। আগামী ২৬ অক্টোবর মহাদশমীতে বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। দেবী দুর্গা এবার পিতৃগৃহে আসবেন দোলায়, আর ফিরে যাবেন গজে। গতকাল শনিবার চুয়াডাঙ্গা শহরের বড় বাজার, মালোপাড়া, তালতলা, বেলগাছিসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা, দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে মৃৎশিল্পালয়গুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রতিমাকে সুন্দর করে সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা-শিল্পীরা। কেউ শাড়ি পরাচ্ছেন, কেউ শাড়ির পাড় লাগাচ্ছেন, কেউবা তুলির আঁচড়ে প্রতিমাকে আরও রাঙিয়ে তুলছেন। আবার কোথাও কোথাও চলছে প্যান্ডেল তৈরি আর সাজসজ্জার কাজ। জানতে চাইলে প্রতিমা কারিগর কার্তিক চন্দ্র পাল বলেন, ‘পূজাকে ঘিরে খুব ব্যস্ত সময় কাটছে। বিশ্রামের সময় নেই। পূজার আর মাত্র কয়েকদিন বাকী। করোনার কারণে এবার মণ্ডপের সংখ্যা কম।’ আরেক কারিগর বিকাশ কুমার দাশ বলেন, প্রতিমা সাজানোর শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। তুলির কাজ প্রায় শেষ, যেখানে যেখানে আরেকটু রঙ দরকার সেখানে রঙ দিচ্ছি। অচিন্ত কুমার দাশ বলেন, আমি এখন দেবীর হাতে শাড়ির পাড় বাঁধছি। কয়েকদিন পরই মায়ের বন্দনা শুরু হবে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, এবার জেলায় ১০৮টি মণ্ডপে দেবী দুর্গার পূজা হচ্ছে। গত বছর ১১৬টি মণ্ডপে পূজা হয়েছিল। করোনা ভাইরাসের কারণে এ বছর মণ্ডপের সংখ্যা ৮টি কমেছে। এরমধ্যে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় গতবছর মণ্ডপ ছিল ৩২টি। এবারে একটি কমে হয়েছে ৩১টি। আলমডাঙ্গা উপজেলায় গতবছর ৩৬টি মণ্ডপে পূজা হলেও এবার কমে হয়েছে ৩২টি। অর্থাৎ চারটি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে না। দামুড়হুদা উপজেলায় ২২টি মণ্ডপে পূজা হবে। এ উপজেলায় একটিও মণ্ডপ না কমলেও, জীবননগর উপজেলায় তিনটি মণ্ডপ কমে এবারে ২৩টি মণ্ডপে হবে পূজা। চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিংকর দে বলেন, পূজা উদ্যাপনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। মণ্ডপগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সব মণ্ডপে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক পরিধাণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। আমরা সেটি নিশ্চিত করতে কাজ করব। প্রশাসন থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিধানের নিশ্চয়তা দিয়েছে। এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে পূজামণ্ডপের সংখ্যা কমেছে বলেও জানান তিনি। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমাদের আইজিপি স্যারের নির্দেশনা আছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তাদের বলেছি সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে। মণ্ডপে যারা যাবেন সকলের জন্য মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মণ্ডপে আরতি ও অঞ্জলি পালনে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। নিরাপত্তায় পুলিশ ও আনসার মোতায়েন থাকবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)