ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় পূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভায় জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক:
করোনাকালীন সময়ে সরকারের নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চুয়াডাঙ্গায় পালিত হবে হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের জন্য ধর্ম-মন্ত্রণালয় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। সেই নির্দেশনা মেনেই এবার পালিত হবে দুর্গোৎসব। মহালয়ার আয়োজন স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে করতে হবে, সকলকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে হবে। বেশি সংখ্যক নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক নারী/পুরুষ রাখার ব্যবস্থা করবেন। সামর্থ থাকলে পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা সংযোগের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ভক্তিমূলক সংগীত ছাড়া অন্য কোনো গান বাজানো যাবে না। মাইক বা পিএ সেট ব্যবহার করা যাবে না। পূজামন্ডপে ‘প্রয়োজনের অতিরিক্ত দীর্ঘ সময়’ কোনো দর্শনার্থী যেন না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিহার করতে হবে। খোলা জায়গায় অস্থায়ী প্যান্ডেলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে তাৎক্ষণিক আইশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। প্রতিমা বিসর্জনে শোভাযাত্রা পরিহার করায় ভালো। যথাসম্ভব কম মানুষ রাখতে হবে। প্রত্যেক মণ্ডপে একজন ফোকাল পয়েন্ট থাকবে। যার সাথে প্রশাসন বিভিন্ন কাজে যোগাযোগ করবে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও যে সরকারি বরাদ্দ আপনাদের জন্য এসেছে। তা দ্রতই দিয়ে দেওয়া হবে। সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকায় এবারে স্থায়ীভাবে কোনো পূজা মণ্ডপে পুলিশ থাকবে না। তবে মোবাইল টহল ২৪ ঘন্টা কড়াকড়িভাবেই চলবে। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে ৬জন আনসার আর সাধারণ মণ্ডপে ৪জন আনসার সদস্য থাকবেন। যেকোনো দুর্ঘটনায় জেলা পুলিশ বা ৯৯৯ নাম্বারে কল দিবেন। পুলিশ সকল সময় আপনাদের সাথে থাকবে। সভায় আরো বক্তব্য দেন, চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইয়াহ ইয়া খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীন, চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু। পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষে বক্তব্য দেন, প্রশান্ত কুমার অধিকারী, বাসু দেব, কিংকর দে, অমল কুমার বিশ্বাস প্রমুখ। এবার জেলায় মোট ১০৮টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব পালিত হবে। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদরে ৩১টি, আলমডাঙ্গায় ৩২টি, দামুড়হুদায় ২২টি ও জীবননগরে ২৩টি পূজা মণ্ডপ রয়েছে।
