ছবির ক্যাপশন:
মিঠুন মাহমুদ:
জীবননগরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাল্টা লেবুর চাষ হচ্ছে। উপজেলায় বারি মাল্টা (১) লেবুর চাষ করে যাদুকরী সাফল্য পাচ্ছেন চাষিরা। আড়াই বছর আগে লাগানো বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে সুন্দর গাড়ো কমলা রঙের সুমিষ্ট লেবু। বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হওয়ায় মাল্টা লেবু চাষে আগ্রহী হয়েছেন অনেকে। জীবননগর উপজেলার মাটি সব ফসলের জন্য উপযোগী হলেও এই প্রথম একজন কলেজপড়ুয়া শিক্ষিত উদ্যোমী লেবু চাষি শাকিব খান বারি মাল্টা (১) চাষ করে সফল হয়েছেন।
জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের নিধিকুণ্ডু গ্রামে ১ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে বারি মাল্টা (১) জাতের ১৫০টি চারা রোপণ করেন তরুণ এই উদ্যোক্তা। চারা লাগানোর পর নিবিড় পরিচর্যা অজৈব প্রযুক্তি (কেঁচো সার) ব্যবহার করে মাত্র দেড় বছর বয়সে গত বছর সামান্য পরিমাণ ফলন এলেও এবার প্রতিটি গাছে ৫০ থেকে ২ শ টি ফল ধরছে। রায়পুর ইউনিয়নের নিধিকুণ্ডু সড়কের পাশে কলেজছাত্র শাকিব খানের স্বপনের মাল্টা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, ছোট ছোট মাল্টা গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় মাল্টা লেবু।
শাকিব খান জানান, প্রতিটি গাছে ১ শ থেকে ২ শ টি করে ফল ধরেছে। এ ফলনে দারুন খুশি এই তরুণ উদ্যোক্তা। তাঁর বাগানে উৎপাদিত মাল্টা বিদেশ হতে আমদানিকৃত যেকোনো মাল্টার চেয়ে রসালো সুস্বাদু এবং বেশি মিষ্টি। তাঁর সাফল্য দেখে অনেকে মাল্টা লেবু চাষ শুরু করছেন এবং তাঁর বাগানে আসছেন মানসম্মত চারা সংগ্রহের জন্য। এরই মধ্যে তিনি প্রচুর পরিমাণে মাল্টার কলম তৈরি করছেন বিক্রয়ের জন্য। নিজস্ব মার্তৃগাছ হতে চারা কলম তৈরি বলে তিনি শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে চারা বিক্রি করছেন। চলতি বছরে প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে লাগানো চারা সরবরাহ করছেন বলে তিনি জানান। বর্তমানে তাঁর বাগানে প্রায় ১০ হাজার কলম তৈরি আছে মাল্টা বাগান করার জন্য
এ ব্যপারে জীবননগর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, মাল্টা চাষি শাকিব খান একেবারে তরুণ। তিনি কলেজে লেখাপড়া করে একজন সৎ কর্মঠ ও সচেতন শিক্ষিত তরুণ চাষি। তিনি সম্পন্ন রাসায়নিক মুক্তভাবে জৈব সার (ভার্মি কম্পোস্ট) এবং জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে মাল্টার চাষ করছেন। কৃষি বিভাগ তাঁর সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে। যা আগামীতে অব্যহত থাকবে। সরকারিভাবে মাল্টা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। বর্তমানে জীবননগর উপজেলায় ৫২ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ হচ্ছে। এদিকে, দিন দিন যেভাবে এ উপজেলায় মাল্টা চাষ হচ্ছে, তাতে করে অর্থনীতিতে দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
