ছবির ক্যাপশন:
রিয়াজ মোল্লা, কালীগঞ্জ:
রাসায়নিক সার অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে জমির উর্বরতা ক্রমশ কমতে থাকে। রাসায়নিক সারে উৎপাদিত শাকসবজি, ফসল ও সবজি খেয়ে মানুষ প্রতিনিয়ত নানা কঠিন ও জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে জমিতে জৈব সার ব্যবহার করলে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি মাটি, পানি, বায়ু থাকে শুদ্ধ ও স্বাস্থ্যসম্মত। তা ছাড়াও অল্প খরচে এ সার বাড়িতে তৈরি করা যায়। খেতে ব্যবহারের মাধ্যমে ভালো ফসলও পাওয়া যায়। সে কারণে কৃষকেরা দিনদিন জৈব সারের ওপর ঝুঁকে পড়ছে। কথাগুলো বললেন ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের কাদিরডাঙ্গা গ্রামের জৈবচাষি মনি গোপাল সরকার। উপজেলার প্রত্যন্তাঞ্চালের এ কৃষক বাড়িতে কেঁচো বা জৈব সার উৎপাদন করে এক দিকে খেতে ব্যবহার করছেন, অন্যদিকে বিক্রির মাধ্যমে সংসারে স্বচ্ছলতা এসেছে।
সরেজমিনে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কাদিরডাঙ্গা গ্রামের মনি সরকারের কেঁচো সার তৈরির প্লান্টে গেলে দেখা যায়, বাড়ির একপাশের একটি টিনের চালার ভেতরে প্রায় দুই শতাধিক মাটির চাড়ি সারি সারি বসানো রয়েছে। চাড়ির ওপরে দেওয়া বস্তা সরিয়ে দেখা যায় চাড়ির ভেতরে ভরা রয়েছে গোবর লতাপাতা এবং এরমধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে লাল রঙের এক ধরনের কেঁচো। যে কেঁচোগুলো গোবর ও পঁচা লতাপাতা খেয়ে এক দিকে মলত্যাগ করছে অন্যদিকে বংশ বিস্তার ঘটাচ্ছে। কেঁচোর এ মলই রোদে শুকালে উৎপাদন হচ্ছে অধিক উর্বরাক্ষম জৈব সার বা কেঁচো কম্পোস্ট সার।
মনি সরকার জানান, আজ থেকে ১২ বছর আগে জাপানভিত্তিক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হাঙ্গার ফ্রি ওয়াল্ড থেকে কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়ে বাড়িতে ছোট পরিসরে কোঁচো সার তৈরি শুরু করি। উৎপাদিত সার নিজ জমিতে ব্যবহার করে বেশ ফলনও আসে। এরপরও থেকে বাণিজ্যিকভাবে কেঁচো কম্পোস্ট উৎপাদন করে বাজারে প্রতি কেজি ১২ টাকায় বিক্রি করছি। এলাকার কৃষকেরা তাঁদের সবজি ও পান বরজে এ সার ব্যবহারের মাধ্যমে বেশ সাফল্য পাওয়ায় এলাকায় আমার উৎপাদিত কেঁচো কম্পোস্টের ব্যাপক চাহিদা। প্রতিবছর কম্পোস্ট সার বিক্রি করে কমপক্ষে লক্ষাধিক টাকা আসে। আবার প্রতি কেজি কেঁচো দেড় হাজার টাকা দরে বিক্রি করেও টাকা পাই। মনি আরও জানান, ‘মাঠে আমার মাত্র দুই বিঘার মতো চাষযোগ্য জমি আছে। জমিগুলো জৈব পদ্ধতিতে চাষ করে কিছু ফসল আসে। বাকিটা কম্পোস্ট থেকে বেশ টাকা আসে। এখন সংসারে বেশ স্বচ্ছলতা ফিরেছে। সঙ্গে সঙ্গে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ যোগাচ্ছি।’ মনি সরকারের ছেলে প্রশান্ত সরকার জানান, ‘আমরা তিন ভাই-বোন কলেজে লেখাপড়া করছি। বাবা খুব পরিশ্রমী বলেই সবার খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে।’
কালীগঞ্জ উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান, মনি সরকারের কেঁচো কম্পোস্ট প্ল¬ান্টে তিনি নিজে গিয়েছেন। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও মাটি, পানি, বায়ুর স্বাস্থ্য রক্ষায় তিনি যে জৈব যুদ্ধে নেমেছেন, কৃষি অফিস তাঁকে সাহায্য করে যাচ্ছে।
