এক অকুতোভয় যোদ্ধার চিরবিদায়

আপলোড তারিখঃ 2020-08-19 ইং
এক অকুতোভয় যোদ্ধার চিরবিদায় ছবির ক্যাপশন:
নিজম্ব প্রতিবেদক: যখন বড় দুঃসময়, কলমের এক আঁচড়ে পরিবর্তিত হয়ে গেল জাতীয়তার পরিচয়। কারাভ্যন্তরে অন্তরীণ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজের পরিচয় সনদে যুক্ত করলেন গর্বিত অহংকারে ‘বাংলাদেশি নই, আমি বাঙালি’। আ.শু বাঙালী। পূর্ণ নাম আব্দুস শুকুর। পরিচিত তিনি আ.শু বাঙালী নামে। চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার উত্তর-পূর্ব কোণের গ্রাম কূলচারায় তাঁর বসতভিটা। বাবা আফিল উদ্দিন মণ্ডল, মা জুলেখা খাতুনের জ্যেষ্ঠ সন্তান আব্দুস শুকুর ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের ৩১ জানুয়ারি শুক্রবার মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব-কৈশোর দস্যিপনায় মুখরিত করে তাঁর বেড়ে ওঠা। নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ শেষে ভর্তি হন ভি জে হাইস্কুলে। ১৯৬৬ সালে এসএসসি পাশ করেন। তারপর চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ শেষে মানুষ গড়ার ব্রত নিয়ে শিক্ষকতা পেশা হিসেবে গ্রহণের জন্য কমলাপুর পিটিআইতে ভর্তি হন ১৯৬৯ সালে। তখন দেশব্যাপী সামরিক স্বৈরাচার আইয়ুববিরোধী আন্দোলন দানা বেঁধে উঠেছে। ১১ দফা দাবির সপক্ষে দেয়াল-লিখনের মাধ্যমে প্রগতিশীল রাজনীতিতে পদার্পণ। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যূত্থানের পথ ধরে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ। ৮ নম্বর সাব-সেক্টরের ক্যাপ্টেন মুস্তাফিজুর রহমানের (পরবর্তীতে সেনাপ্রধান) অধীনে এক্সপ্লোসিভ বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণ। মে মাসের মাঝমাঝি পর্যন্ত সীমান্তবর্তী এলাকায় দু-চারটি ছোটখাটো অপারেশন শেষে ক্যাপ্টেন মুস্তাফিজুর রহমানের নির্দেশে দেশের অভ্যন্তরে থেকে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য প্রথমে ৩৬ জনকে নিয়ে নিজস্ব গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলেন। এই বাহিনী চুয়াডাঙ্গার খাসকররা, নীলমণিগঞ্জ, পদ্মবিলা, সরোজগঞ্জ, গিরিশনগর, কালুপোল, খেজুরতলা, ঝিনাইদহের হরিণাকণ্ডু ও শৈলকুপা অঞ্চলে বেশ কয়েকটি সফল অপারেশন চালায় এবং পাক-বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ সমরে লিপ্ত হয়। পরে এই গেরিলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১২৭-এ উন্নীত হয়। ব্যক্তিজীবনে প্রগতিশীল রাজনৈতিক চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন। স্বাধীনতা পূর্ব সময়ে কিছুকাল ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) চুয়াডাঙ্গা শহর শাখা ও পরবর্তীতে জেলা শাখার সঙ্গে ২০১০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কম-বেশি যুক্ত ছিলেন। ২০০৯-২০১৯ খ্রিস্টাব্দে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পার্টির সকল পদ থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করেন। তবে পরবর্তীতে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত পার্টির সঙ্গে সখ্য বজায় ছিল। কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, দর্শনায় চাকরিকালীন সময়ে ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত থেকে শ্রমিক স্বার্থ সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। টিইউসির নেতা হিসেবে রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন, পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, রেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। অল্প বয়স থেকে শিল্প-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুবাদে সকল স্তরে ছিল তাঁর পদচারণা। সমাজ-রাজনীতির বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে নিরলসভাবে তিনি একদা ‘জনতার একস্লিপ’, ‘নিম-নিশিন্দা’, ‘বাঙ্গালীর কড়চা’ শিরোনামে লিখতেন স্থানীয় ও জাতীয় পত্র-পত্রিকায়। চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ, অরিন্দম সাংস্কৃতিক সংগঠন, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ চুয়াডাঙ্গার সঙ্গে প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই পদচারণা ছিল তাঁর। অরিন্দমের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আমৃত্যু প্রগতি লেখক সংঘের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র, দুই কন্যা, নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। উল্লেখ্য, দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর নিজস্ব প্রতিবেদক মেহেরাব্বিন সানভীকে প্রতিবেনদন তৈরিতে তথ্য প্রদানে সহযোগিতা করেছেন বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজল মাহমুদ ও বাংলাদেশ কৃষক লীগ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)