ছবির ক্যাপশন:
বেগমপুরের দোস্তে পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ
দর্শনা অফিস:
চুয়াডাঙ্গা সদরের বেগমপুরের দোস্তে কয়েক দিনে ধরে পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় পুলিশের কাছে দুই পক্ষই দিচ্ছে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ। এ শত্রুতার জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার মসজিদের মুয়াজ্জিনের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মুয়াজ্জিন ঈমান আলীকে গুরতর আহত অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তির পরিবার দর্শনা থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দর্শনা থানার আওতাধীন বেগমপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর-বোয়ালমারী পাড়ায় দুই পক্ষের পূর্ব শত্রুতা ও পুলিশের কাছে মাদক ব্যবসায়ীকে ধরিয়ে দেওয়ার সন্দেহে গত শুক্রবার থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এ ঘটনার জেরে গতকাল দুপুরের দিকে দোস্ত বাজার মসজিদের মুয়াজ্জিন বোয়ালমারি পাড়ার ওসমান আলীর ছেলে ঈমান আলীকে (৬৩) আতর্কিত হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার মসজিদে আজান দেওয়ার জন্য দুপুুর সাড়ে ১২টার দিকে কৃষ্ণপুর দোস্ত বটতলায় আসেন মুয়াজ্জিন ঈমান আলী। আজানের কিছু সময় বাকি আছে দেখে বাজারের জনৈক ভূষিমাল ব্যবসায়ীর আড়তের সামনে ঈমান আলী দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ৮-১০ জন ঈমান আলীকে টেনে-হেঁচড়ে পাকা রাস্তার ওপর নিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকে। শেষমেষ কয়েকজন হামলাকারীদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে মসজিদের মুয়াজ্জিন ঈমান আলীকে রক্ষা করেন। পরে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় ঈমান আলীকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং পুলিশকে খবর দেয়। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহাবুবুর রহমান তাঁকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রাখেন। পরে এ মারামারির ঘটনার খবর পেয়ে দর্শনা থানার পুলিশ ও হিজলগাড়ি ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
এদিকে, একজন মসজিদের মুয়াজ্জিনকে রাস্তায় ফেলে প্রকাশ্যে পেটানোর ঘটনায় ধিক্কার জানিয়েছে এলাকাবাসী। সেই সঙ্গে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। এ ঘটনায় মুয়াজ্জিন ঈমান আলীর ভাই সালাউদ্দিন বাদী হয়ে ইব্রাহীমের ছেলে আমীর হোসেনকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২ জনকে আসামি করে দর্শনা থানায় একটি অভিযোগ করে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। অপর দিকে স্থানীরা আরও জানান, কয়েকদিন আগে ঈমন আলীর লোকজন জামির হোসেন নামের একজনকে মারপিট করে। সেই পূর্বশত্রুতার জের ধরে ঈমান আলীকে মারধর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান কাজল জানান, এ ধরনের মারামারির একটি ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত ব্যক্তির পরিবার দর্শনা থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে দর্শনা থানার পুলিশ একটি টিম নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে দর্শনা-হিজলগাড়ি সড়কের আরাম ইটভাটার সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানোকালে একটি মোটরসাইকেলসহ দর্শনা থানাধীন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর বোয়ালমারী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে অনিককে ৪৫ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। পুলিশ অনিককে আটকের ঘটনায় পরিবারের লোকজন একই এলাকার পূর্ব শত্রু জামির হোসেনকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করতে থাকে। ওই দিনই রাত ৯টার দিকে ইব্রাহীম হোসেনের ছেলে জামির হোসেন ও আবু হোসেনের ছেলে নবী হোসেন দোস্ত বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথের মধ্যে রাতের আঁধারে তাঁদের গতিরোধ করে বেদম মারপিট করেন আটককৃত অনিকের নিকটজনেরা।
