ছবির ক্যাপশন:
নতুন ৪০ জনসহ চুয়াডাঙ্গায় ৩ দিনে ৭১ জনের করোনা শনাক্ত
করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া দুজনের রিপোর্ট পজিটিভ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় ৩ দিনের সংগৃহীত ১৫৬টি নমুনার মধ্যে নতুন করে ৭১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় জেলা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৭৫৯ জনে। গতকাল আক্রান্ত ৭১ জনের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৩৭ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৯ জন, দামুড়হুদা উপজেলার ২ জন ও জীবননগর উপজেলার ১৩ জন। কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাব থেকে গতকাল বুধবার রাত ৯টায় জেলা সিভিল সার্জন অফিসে চুয়াডাঙ্গা থেকে গত ২৯ জুলাই, ৩০ জুলাই ও ৪ আগস্ট তারিখের সংগৃহীত তিন দিনের ১৫৬টি নমুনার ফলাফল এসেছে। এতে ৭১ জনের রিপোর্ট পজিটিভ ও বাকি ৮৫ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫৯ জনে। গতকাল করোনা শনাক্ত ৭১ জনের বয়স ৭ বছর থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত। গতকাল প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন ও হোম আইসোলেশন থেকে নতুন ২৯ জন সুস্থ হয়েছেন।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলাতদিয়াড় একালার বাসিন্দা কাসেদ আলী মোল্লা (৭০) ও জীবননগর উপজেলার তারিনীবাস গ্রামে শিক্ষক নুরুল ইসলাম (৬০) করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়। ওই দিন তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। গতকাল রাতে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত দুই বৃদ্ধর নমুনার ফলাফল পজিটিভ আসে। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৩ জনে। জানা যায়, মৃত কাসেদ আলী মোল্লা চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলাতদিয়াড় গ্রামের সরদারপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর পরিবারের এক সদস্যদের করোনা পজিটিভ হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন কাসেদ আলী মোল্লা। এছাড়াও তাঁর করোনা উপসর্গ ছিল। গত বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
একই দিনে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শিক্ষক নুরুল ইসলাম জীবননগর উপজেলার তারিনীবাস গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে। তিনি উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নের তারিনীবাস গ্রামে তারিনীবাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি বেশ কয়েকদিন যাবৎ ঠান্ডা-জ্বরে ভুগছিলেন। গত বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। পরের দিন বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাঁর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
গতকাল বুধবার (৫ আগস্ট) কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবের প্রদত্ত তথ্যমতে চুয়াডাঙ্গার ৯৬টি, ঝিনাইদহ ৬৬টি, মেহেরপুর ২২টি ও কুষ্টিয়ার ১৭৪টি নমুনাসহ মোট ৩৫৮টি নমুনা পরীক্ষা করে চুয়াডাঙ্গার ৪০ জন, ঝিনাইদহ জেলার ৩৬ জন, মেহেরপুর জেলার ৩ জন ও কুষ্টিয়া জেলার ৬৪ জনসহ মোট ১৪৩ জনের শনাক্ত হয়েছে। গতকাল পরীক্ষিত নমুনায় শুধুমাত্র চুয়াডাঙ্গা জেলার ৬ জনের ফলোআপ রিপোর্ট পজিটিভ। বাকিগুলোর ফলাফল নেগেটিভ।
চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগ গতকাল করোনা আক্রান্ত সন্দেহে ৮০টি নমুনা সংগ্রহ করেছে। সদর উপজেলা থেকে ৪৪টি, আলমডাঙ্গা উপজেলা থেকে ১৯টি, দামুড়হুদা উপজেলা থেকে ৯টি ও জীবননগর উপজেলা থেকে ৮টি নমুনাসহ সংগৃহীত ৮০টি নমুনা পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে, গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জেলায় ৩০ করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৭ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৮ জন এবং দামুড়হুদা উপজেলায় ৫ জন।
৩ আগস্ট সোমবার কুষ্টিয়ার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে চুয়াডাঙ্গার ফলোআপসহ ৪০টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন ১৫ জন করোনা শনাক্ত হয়। সোমবার নতুন আক্রান্ত ১৫ জনের মধ্যে সদরে উপজেলার ১২ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলার ১, দামুড়হুদা উপজেলার ১ জন ও জীবননগর উপজেলার ১ জন। ২ আগস্ট রোববার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ নতুন কোনো রিপোর্ট পায়নি। ওইদিন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ পিসিআর ল্যাব চুয়াডাঙ্গার কোনো নমুনার ফলাফল প্রকাশ করেনি। ১ আগস্ট শনিবার কুষ্টিয়ার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে চুয়াডাঙ্গার ফলোআপসহ ৮৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ২৫ জনের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার পুলিশ প্রধানসহ ১৭ জন। আলমডাঙ্গা উপজেলার ৪ জন ও দামুড়হুদা উপজেলার ৩ জন।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৩ হাজার ৬৭৬টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৩ হাজার ৪৫৯টি, পজিটিভ ৭৫৯ জন, নেগেটিভ ২ হাজার ৭০২ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৩৭৩ জন ও মৃত্যু ১৩ জন।
গতকাল রাতের শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জেলায় প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে ৩৮ জন ও হোম আইসোলেশনে ছিলেন ৩৩৩ জন এবং ঢাকায় চিকিৎসা নিচ্ছেন ২ জন। গতকাল প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন ২১ জন, হোম কোয়ারেন্টাইনে নতুন যুক্ত হয়েছে ৬১ জন, হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৪৫ জন। জেলায় এ পর্যন্ত মোট হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন ৪ হাজার ৮২৫ জন, হোম কোয়ারেন্টান থেকে ছাড় পেয়েছেন মোট ৩ হাজার ৯৬৮ জন, বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৮৫৭ জন।
