ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় আরও একজনের পজিটিভ, মোট আক্রান্ত ৪৯১
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় গত ২৪ ঘণ্টায় তিনটি নমুনা পরীক্ষা করে একজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নিকট কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ পিসিআর ল্যাব থেকে নতুন তিনটি নমুনার ফলাফল আসে। উক্ত ফলাফলে একজনের রিপোর্ট পজিটিভ ও বাকি দুজনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। নতনু করোনা শনাক্ত দামুড়হুদা উপজেলার দশমীপাড়ার একজন পুরুষ। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯১ জনে। গতকাল নতুন কোনো রোগী সুস্থ হয়নি। মোট সুস্থ ২৬৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা আক্রান্ত সন্দেহে নতুন ২৭টি নমুনা সংগ্রহ করে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ পিসিআর ল্যাবে পাঠিয়েছে। জেলায় মোট নমুনা সংগ্রহ করেছে ৩ হাজার ৮৮টি। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন ৫৭ জন ও হোম আইসোলেশনে আছেন ১৬০ জন। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ২০ জন ও হোম কোয়ারেন্টাইনে যুক্ত হয়েছেন ২৭ জন। এ ছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে খাদিজা খাতুন (৫৮) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজশাহী নেওয়ার পথে নাটোর জেলায় পৌঁছালে মারা যান তিনি। খাদিজা খাতুন চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ফেরিঘাট রোডের বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী।
কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবের তথ্যে জানা যায়, গতকাল ল্যাবে মোট ২৮২টি নমুনার মধ্যে কুষ্টিয়ার ৮৯, চুয়াডাঙ্গার ৩, ঝিনাইদহ ৬৮, মেহেরপুর ৩০ ও নড়াইলের ৯২টি পরীক্ষা করা হয়। এতে কুষ্টিয়া জেলায় নতুন ২৮ জন, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১ জন, ঝিনাইদহ জেলায় ২৫ জন, নড়াইল জেলার ৪০ জন ও মেহেরপুর জেলায় ৩ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। বাকিগুলোর ফলাফল নেগেটিভ আসে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শামীম কবির বলেন, চুয়াডাঙ্গায় তিনটি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন একজন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তিনি দামুড়হুদা উপজেলার দশমীপাড়ার বাসিন্দা। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে রিপোর্ট আসার সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে সবার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে আক্রান্তের খবর জানানো হয়েছে। আক্রান্তদের বাড়িঘর পরিদর্শন করে লকডাউনসহ বাড়ির অবস্থা বুঝে হোম আইসোলেশন অথবা প্রতিষ্ঠানিক আইসোলেশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গায় এখন পর্যন্ত সর্বমোট আক্রান্ত ৪৯১ জনের মধ্যে সদর উপজেলায় ২২৮ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১০৮ জন, দামুড়হুদা উপজেলায় ১১২ জন ও জীবননগর উপজেলায় ৪৩ জন। সুস্থতার মধ্যে সদর উপজেলায় ৮৭ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৭৫ জন, দামুড়হুদা উপজেলায় ৭৬ জন ও জীবননগর উপজেলায় ২৭ জনসহ মোট ২৬৫ জন। এ পর্যন্ত জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ ৭ জনের মধ্যে সদর উপজেলায় ২ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ২ জন ও দামুড়হুদা উপজেলায় ৩ জন।
চুয়াডাঙ্গায় সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় ৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ১ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাঁর বাড়ি দামুড়হুদা উপজেলায়। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়েছি, লকডাউনসহ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।’
এদিকে, জানা গেছে, খাদিজা খাতুন দীর্ঘদিন যাবত ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট ও বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ অসুস্থ হলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। রাজশাহী নেওয়ার পথে নাটোর জেলায় পৌঁছালে রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শামীম কবীর ঘটনার সত্যতার নিশ্চিত করে বলেন, খাদিজা খাতুন গত বৃহস্পতিবার করোনা উপসর্গ নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁর অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী রেফার্ড করা হয়। রাজশাহী নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নাটোরে পৌঁছালে তাঁর মৃত্যু হয়। খাদিজা খাতুনের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে খাদিজা খাতুনের মরদেহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন সম্পন্ন করা হয় বলে জানান এই কর্মকর্তা।
