ছবির ক্যাপশন:
আগামী ২৭ জুলাই দর্শনায় আন্তর্জান্তিক রেলওয়ে স্টেশনে হবে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর
আওয়াল হোসেন/ওয়াসিম রয়েল:
দর্শনা সীমান্ত দিয়ে আগামী ২৭ জুলাই সোমবার ভারত থেকে ১০টি ব্রডগেজ ট্রেনের ইঞ্জিন আসছে। এ ট্রেনের ইঞ্জিন আসাকে কেন্দ্র করে দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এদিকে, আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রেলওয়ে পশ্চিম জোনের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক আশাদুল হকের নের্তৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী ২৭ জুলাই বেলা আড়াইটার দিকে দর্শনা সীমান্তে ভারত প্রতিনিধি দল ও বাংলাদেশের রেলওয়ে প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এ ট্রেনের ইঞ্জিনগুলো হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিম জোনের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক আশাদুল হক ও দর্শনা আর্ন্তজাতিক রেল স্টেশনের সুপারিনটেনন্ডেট লিয়াকত আলী ট্রেনের ইঞ্জিন আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওইদিন বেলা আড়াইটায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, রেলমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ ইঞ্জিন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
রেল মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জাতীয় একটি দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে জানা গেছে, ভারতীয় রেলওয়ে বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১০টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ ইঞ্জিন উপহার দিচ্ছে। বাংলাদেশ রেল বহরে ২৭৩টি রেলওয়ে ইঞ্জিনের মধ্যে ১৯৫টি মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন চলাচল করছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে রেল ইঞ্জিনের সংকটের কথা তুলে ধরা হলে আরও ২০টি ইঞ্জিন দেওয়ার কথা বলে ভারত। এছাড়া চলতি বছর দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩০টি এবং আমেরিকা থেকে ৪০টি ইঞ্জিন আসার কথা রয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। যা আগামী ২০২১ সালে মাঝামাঝি জাহাজযোগে আসার কথা রয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের মতে একটি রেল ইঞ্জিন ইকোনমিক লাইফ বা কার্যক্ষমতা থাকে ২০ বছর। ফলে বেশির ভাগ ইঞ্জিন মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েও চলাচল করছে। ১৯৭৩ সালে ৪৬টি ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা চলে গেলেও বছরকে বছর ধরে চলছে। সর্বশেষ ১৯১৬ সালে ১৭ অর্থবছরে রেলওয়েতে মিটার গেজ ও ব্রডগেজ ইঞ্জিন সংখ্যা কমে হয় ২৭৩টি। এ সময় জিএমবি-১২ মডেলের ইঞ্জিনের গতি ছিলো ৬৫-৭৫ কিলোমিটার। এখন এর গতি ৩০-৩৫ কিলোমিটার। এসব ইঞ্জিনের জ্বালানি খরচও বেশি। ফলে রেলওয়েতে নতুন ইঞ্জিন যোগ করা জরুরি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
