ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গার আইলহাঁসের পদ্মবিলে দুর্বৃত্তদের নৃশংসতা, অস্ত্র, গুম ও হত্যা মামলার আসামি
ঘটনাস্থল থেকে ফিরে সোহেল তানভীর:
আলমডাঙ্গার আইলহাঁসে অস্ত্র, গুম ও হত্যা মামলার আসামি আব্দুল হাকিমকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নয়ন সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহত হাকিমের বন্ধু পিয়ার আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহত আব্দুল হাকিম আইলহাঁস গ্রামের সাহাবুদ্দিনের ছেলে।
এলাকাসূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার আইলহাঁস ইউনিয়নের পদ্মবিল গ্রামের দরিদ্র সাহাবুদ্দিদের ছেলে আব্দুল হাকিম। জীবন যুদ্ধে তাঁদের সাংসারিক অনটনের কারণে দীর্ঘদিন পরিবারসহ ঢাকায় বসবাস করে আসছিলেন। একটি অস্ত্র মামলায় হাকিম গত বছরের শেষের দিকে জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে ঢাকায় চলে যান। তাঁর বাবা-মা ঢাকার একটি গার্মেন্টেসে কাজ করেন। করোনা শুরুর দিকে হাকিম ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে চলে এসে একা একা বসবাস শুরু করেন। প্রায় প্রতিদিন রাতেই পদ্মবিলে তিনি সময় কাটাতেন।
নিহত হাকিমের বৃদ্ধ নানী জানান, ‘হাকিম বৃহস্পতিবার রাতে খাবার খেয়ে বাড়িতেই ছিল। রাত ৮টার দিকে আইলহাঁস গ্রামের ফয়জুলের ছেলে বন্ধু পিয়ার আলী পদ্মবিলে মাছ ধরতে হাকিমকে ডাকতে আসে। পিয়ার আলী তাদের বাড়ি থেকে মাছ ধরার যন্ত্র থোরকোচও নিয়ে যায়। হাকিম তার সঙ্গে পদ্মবিলে যায়।’
পদ্মবিল এলাকার বাসিন্দারা জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতেও প্রতিদিনের ন্যায় হাকিম পদ্মবিলে যান। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পদ্মবিলের মধ্য থেকে হঠাৎ চিৎকার বাঁচাও, বাঁচাও। এলাকাবাসী চিৎকার শুনে বিলের মধ্যে ও আশপাশে রাতের আধারে টর্চলাইটের আলোয় খোঁজ করলেও কারোর অস্তিত্ব না পাওয়ায় যার যার বাড়িতে ফিরে যান। গতকাল শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে আইলহাঁস ও পদ্মবিল গ্রামের কয়েকজন কৃষক মাঠে চাষ করতে যান এবং কিছু ব্যক্তি মাছ ধরতে পদ্মবিলে নামেন। এ সময় তাঁরা পদ্মবিলের মধ্যে কোমর পানিতে নিহত হাকিমের লাশ ভাসতে দেখে। বিষয়টি আলমডাঙ্গা থানার পুলিশকে জানালে পুলিশ নিহত হাকিমের লাশ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে হাকিমের বন্ধু পিয়ার আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনটি মামলা চলমান রয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে হত্যা করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হত্যাকারীদের ধরতে পুলিশ মাঠে নেমেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
