ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহ অফিস:
প্রতিবেশী বাড়ির ৬ বছরের এক নাতিকে ধর্ষণ করে অনুশোচনায় ভুগছিলেন ৬৫ বছরের বৃদ্ধ কালাম শাহ। দাদা কর্তৃক পুতনী (নাতি) ধর্ষণের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হলে সমালোচনা ও লোকলজ্জায় পড়েন তিনি। সামাজিক চাপ ও পুলিশের ভয়ে কালাম শাহ আত্মগোপনে চলে যান। এ অবস্থায় চক্ষুলজ্জার কারণে ধর্ষক কালাম শাহ আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বিষ্ণুদিয়া গ্রামে। কালাম শাহ ওই গ্রামের মৃত আইনউদ্দীন শাহর ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার দুপুরে টাকার লোভ দেখিয়ে প্রতিবেশী বাড়ির ৬ বছরের পুতনীকে ধর্ষণ করেন দাদা কালাম শাহ। দিনে-দুপুরে ঘটনাটি সচক্ষে দেখেন শিশুটির মা। এ ঘটনায় গোটা এলাকায় হৈ চৈ পড়ে যায়। প্রতিবেশী দাদা কর্তৃক পুতনী ধর্ষণের খবর ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এদিকে, ধর্ষণ দুর্নামে বৃদ্ধ কালাম শাহ পারিবারিক চাপে পড়েন। সামাজিক লাজলজ্জার ভয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাতে তিনি মনোহরপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুদিয়া গ্রামের একটি কাঁঠাল গাছে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। বিষ্ণুদিয়া গ্রামের শিক্ষার্থী রাশেদ বৃদ্ধ কালামের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠায়।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ মর্গে পাঠিয়েছে। শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় শৈলকুপা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। এদিকে, হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে ডাক্তারি পরীক্ষায় শিশু ধর্ষণের শারীরিক কোনো আলামত মেলেনি।
