ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সভায় অধ্যক্ষ প্রফেসর কামরুজ্জামান
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের এফএফ হলরুমে স্বাস্থবিধি মেনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জমান। সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে এটিই অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জমানের শেষ সাধারণ সভা। আগামী ৮ আগস্ট তিনি অবসরে যাবেন।
সভায় আবেগ আপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ২০১৫ সালে অধ্যক্ষ হিসেবে এ কলেজে আমি যোগদান করেছি। আপনাদের সাথে নিয়ে চেষ্টা করেছি সর্বোচ্চ। এ কলেজের সকল উন্নয়ন কাজে আপনাদের পাশে পেয়েছি। এটিই হয়তো আমার শিক্ষক পরিষদে শেষ সাধারণ সভা। চাকরি সূত্রে আরও অনেক স্থানে অনেক কলেজে ছিলাম, তবে এটিই আমার শেষ কর্মস্থল আর সব থেকে প্রিয় ও বেশি ভালোবাসার কর্মস্থল।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. একেএম সাইফুর রশিদ, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সফিকুল ইসলাম। এ সভায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারি অধ্যাপক, প্রভাষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সাধারণ সভাটি পরিচালনা করেন শিক্ষক পরিষদের সহসম্পাদক সহকারি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। সাধারণ সভায় সরকারি কলেজ তথা চুয়াডাঙ্গাসহ দেশ ও জাতীর মঙ্গল কামনায় দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রদান সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল জব্বার।
উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জমান চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন ২০১৫ সালে। অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জমানের প্রায় ৫ বছরের সময়কালে কলেজে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কলেজের অভ্যন্তরীন রাস্তা তৈরি, কলেজের নতুন মনোরম গেট নির্মাণ, কলেজে মহিলা হোস্টেল নির্মাণ, ৫ তলা বিশিষ্ট পরীক্ষা ভবন নির্মাণ, ৫ তলা বিশিষ্ট ব্যবসায় শিক্ষা ভবন নির্মাণ, বিদ্যুৎ-এর সাব-স্টেশন নির্মাণ, কলেজের অভ্যন্তরীন বিদ্যুতের লাইন নতুনকরণ, মনোরম ও অত্যাধুনিকভাবে অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষের চেম্বার নির্মাণও করেছেন তিনি। কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমেও ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জমান। তিনি বিজ্ঞান বিভাগের রসায়ন ও উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগে অনার্স চালু করা, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ব্যবস্থাপনা বিভাগে মাটার্স চালু করা, মানবিক বিভাগে ইতিহাস, দর্শন ও ইংরেজি বিভাগে মাস্টার্স চালু করাসহ প্রভূত অনুমোদনমূলক কাজ করে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের মান আরও বৃদ্ধি করেছেন। তৈরি করেছেন উচ্চশিক্ষার প্লাটফর্ম। সরকারি কলেজের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একাদশ-দ্বাদশ শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম চালুও করেছেন তিনি। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্ড ইস্যু করে পরীক্ষা গ্রহণ, আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করার প্রথাও চালু করাসহ নানা কাজে রয়েছে তাঁর সফলতা। অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জমান চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের মানবিক ও এক্সট্রা-কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতেও করেছেন ব্যাপক পরিশ্রম। কলেজে রক্তদানকারী সংগঠন বাঁধন, বিতর্ক সংগঠন ডেবেটিং সোসাইটি, গার্ল ইন রোভার, সাহিত্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনও হয় তাঁর হাত ধরে। তিনিই সাহিত্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও কেন্দ্রীয়ভাবে বসন্তবরণ, পিঠা উৎসবসহ খেলাধুলার ক্ষেত্রেও এ কলেজকে এগিযে নিয়ে গেছেন। ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবলসহ নানা ক্রিড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন।
