ছবির ক্যাপশন:
দর্শনা অফিস:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর (দোস্ত বটতলা) হাটের সরকারি দেড় শতক জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে ইউপি চেয়ারম্যান ও বেগমপুর ভূমি অফিস ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পেলে উক্ত দোকান মার্কেটের মালিক দুলালকে দোকান সরিয়ে নিতে বারবার তাগিদ দিলেও তিনি কোনো তোয়াক্কা না করেই রীতিমত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালু রেখেছেন।
জানা গেছে, কৃষ্ণপুর দোস্ত বাজারের মেসার্স দিশা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেন দুলাল দীর্ঘদিন ধরেই হাটের সরকারি দেড় শতক জমি দখল করে বাজারের ওপর পাকা দালান ঘর নির্মাণ করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে বসেছেস। ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে হাটের জায়গা বর্ধিতকরণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে। বেশ কয়েকদিন আগে দ্বিতীয়বার বাজার কমিটি, স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, বেগমপুর ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিলে হাটের মূল জমি পরিমাপের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। জমি পরিমাপের দিনক্ষণ ঠিক করে উক্ত দিনে উপস্থিত থাকার জন্য দেলোয়ার হোসেন দুলালকে বেগমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস অবগত করলে তিনি উক্ত দিনে উপস্থিত হননি। তাঁকে বেগমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলী হোসেন একাধিকবার মোবাইল ফোনে কথা বলে ডাকলে তিনি আসতে নানা রকম তালবাহানা শুরু করেন। ফলে হাটের চলমান উন্নয়নমূলক কাজ বাধাগ্রস্ত হয়ে জনসাধারণের মনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন দুলালের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ‘আমি দীর্ঘ ১০ বছর উক্ত স্থানে মার্কেট নির্মাণ করেছি। সেখানে আমার জানা মতে সরকারি কোনো জমি নেই। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি পক্ষ উঠে পড়ে লেগেছে। জমি পরিমাপের দিন আমি অসুস্থ ছিলাম, তাই যেতে পারিনি। আমার এক শতক জমি রয়েছে। তা ছাড়া আমার নির্মাণকৃত মার্কেটের ভেতরে যদি সরকারি জমি থাকে, তাহলে জমি পরিমাপ করে অবশ্যই বের করে দেব।’
বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন জোয়ার্দার বলেন, বেগমপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর (দোস্ত) বাজারের দেড় শতক জমি দখল করে দেলোয়ার হোসেন দুলাল নামের এক ব্যক্তি একটি পাকা দালান ঘর তুলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। বাজারের প্রয়োজনে জমিটি পরিমাপের জন্য তাঁকে অবগত করা হলে তিনি অনুপস্থিত হওয়ায় তাঁকে মোবাইল ফোনে অবগত করা হলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হতে অপরগতা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে ভূমি অফিস কর্তৃক তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা আতিকুল হক বলেন, ‘আমরা জমি পরিমাপের বিষয়টি মৌখিকভাবে তাঁকে অবগত করি। কিন্তু বাজারের জমি পরিমাপের সময় তিনি সেখানে অনুপস্থিত থাকায় ইউপি চেয়ারম্যান একাধিকবার তাঁর মোবাইল ফোনে কল দিয়ে আসার জন্য বললেও তিনি চেয়ারম্যানের কথার তোয়াক্কা না করে সেখানে আসতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এ বিষয়ে অফিসিয়ালভাবে আজ সহকারী ভূমি কমিশনারের নিকট লিখিত প্রতিবেদন দেওয়া হবে এবং আইনানুযায়ী ভূমি কমিশনার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
এ প্রসঙ্গে সহকারী ভূমি কমিশনার ইসরাত জাহান বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনার অভিযোগ এখনো আমার কাছে আসেনি। কৃষ্ণপুর দোস্ত বটতলা হাটটি আমার পরিচিত। এ ধরনের অভিযোগ পেলে জেলা প্রশাসকের নিকট হতে উচ্ছেদ অভিযানের অনুমতি নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সরকারি জমি কোনো ব্যক্তিই তাঁর নিজের কাজের জন্য ব্যবহার করতে পারবেন না।’
