ছবির ক্যাপশন:
এক দিনে মৃত্যু ৩৯, শনাক্ত ২,৭৩৩; মোট মৃত্যু আড়াই হাজার ছুঁই ছুঁই
সমীকরণ প্রতিবেদন:
এক দিনে করোনাভাইরাস শনাক্তের সংখ্যার দিক দিয়ে এশিয়ায় প্রথম ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। আর মৃত্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। এ দিকে দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর চার মাসের মাথায় সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা পৌঁছে গেছে আড়াই হাজারের কাছাকাছি। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এ ভাইরাসে আক্রান্ত আরো ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাতে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দুই হাজার ৪৯৬ জন। সর্বোচ্চ এক হাজার ২৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যা মোট মৃত্যু ৪৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। গত এক দিনে আরো দুই হাজার ৭৩৩ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯৬ হাজার ৩২৩ জনে। আইইডিসিআরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো এক হাজার ৯৪০ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে এক লাখ ছয় হাজার ৯৬৩ জন হয়েছে।
অনলাইনে গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত বুলেটিনে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: নাসিমা সুলতানা দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ। তা দেড় লাখ পেরিয়ে যায় গত ২ জুলাই। সেদিন চার হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ। আর ১৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। ৫ জুলাই তা দুই হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।
এ দিকে গতকাল ওয়ার্ল্ডোমিটারের ওয়েবসাইটে আপডেট হওয়া গত বুধবারের পূর্ণাঙ্গ তথ্য অনুযায়ী ভারতে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে সর্বোচ্চ ৩২ হাজার ৬৮২ জন রোগী। এশিয়ায় এক দিনে শনাক্ত হওয়া ভারতের এই সংখ্যাই সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশে শনাক্ত ছিল তিন হাজার ৫৩৩ জন। তৃতীয় অবস্থানে সৌদি আরবে শনাক্ত হয় দুই হাজার ৬৭১ জন। চতুর্থ ইরানে দুই হাজার ৩৮৮ জন ও পঞ্চম পাকিস্তানে দুই হাজার ১৬৫ জন। এ ছাড়া একই দিন সর্বোচ্চ মৃত্যু ছিল ভারতে ৬১৪ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে ইরানে মৃত্যু হয়েছে ১৯৯ জন, তৃতীয় ইরাকে ৮৭ জন, চতুর্থ ইন্দোনেশিয়ায় ৮৭ জন, পঞ্চম পাকিস্তানে ৬৬ জন, ষষ্ঠ আফগানিস্তানে ৪৬ জন, সপ্তম সৌদি আরবে ৪২ জন এবং অষ্টম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশে মৃত্যু হয়েছিল ৩৩ জন। অন্য দিকে করোনা শনাক্তের সংখ্যায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো ১৭ নম্বরে। আর মৃত্যুতে ২৭ নম্বরে। বুলেটিনে ডা: নাসিমা সুলতানা জানান, দেশে বর্তমানে ৮০টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৩ হাজার ৫৪৮টি, পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ হাজার ৮৮৯টি। এখন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯ লাখ ৯৩ হাজার ২৯১টি। ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৭৩৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ২০ শতাংশ, এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ২৭ শতাংশ।
২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ৩১ জন এবং নারী আটজন। এ পর্যন্ত যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের মধ্যে পুরুষ এক হাজার ৯৭১ জন; যা ৭৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং নারী ৫২৫ জন; যা ২১ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৫ জন, আর বাড়িতে চারজন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, অঞ্চল বিবেচনায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৮ জন, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে ছয়জন করে, রংপুর ও সিলেট বিভাগে তিনজন করে, বরিশাল বিভাগে দুইজন এবং রাজশাহী বিভাগে একজন রয়েছেন। এ পর্যন্ত বিভাগ অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ঢাকা বিভাগে এক হাজার ২৪২ জন, যা ৪৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ; চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৩৯ জন, যা ২৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ; রাজশাহী বিভাগে ১২৮ জন, যা পাঁচ দশমিক ১৩ শতাংশ; খুলনা বিভাগে ১৪৪ জন, যা পাঁচ দশমিক ৭৭ শতাংশ; বরিশাল বিভাগে ৯১ জন, যা তিন দশমিক ৬৫ শতাংশ; সিলেট বিভাগে ১১৩ জন, যা চার দশমিক ৫৩ শতাংশ; রংপুর বিভাগে ৮৩ জন, যা তিন দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৬ জন, যা দুই দশমিক ২৪ শতাংশ।
নাসিমা সুলতানা জানান, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে একজন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে দুইজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে চারজন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন। তিনি জানান, এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের বয়স বিভাজনে দেখা যায়, শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১৭ জন, যা দশমিক ৬৭ শতাংশ; ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ২৯ জন, যা এক দশমিক ১৬ শতাংশ; ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৭৬ জন, যা তিন দশমিক শূন্য চার শতাংশ; ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৭৬ জন, যা সাত দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ; ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩৫৯ জন, যা ১৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ; ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৭৪২ জন, যা ২৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং ষাটোর্ধ্ব এক হাজার ৯৭ জন, যা ৪৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ডা: নাসিমা সুলতানা আরো জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৮৬৭ জন, আর আইসোলেশন থেকে মুক্ত হয়েছেন ৭০০ জন। এ পর্যন্ত মোট আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৪৭ জন, আর আইসোলশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২১ হাজার ৯১৬ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৮ হাজার ৩১ জন। তিনি আরো জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৪৩৯ জন, আর এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে গেছেন চার লাখ তিন হাজার ২৬৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন থেকে মুক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৮৬৪ জন, আর এ পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন তিন লাখ ৪২ হাজার ৪৫৭ জন। বর্তমানে কোয়ান্টিনে আছেন ৬০ হাজার ৮১২ জন।
