ছবির ক্যাপশন:
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তালেব মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ
জীবননগর অফিস:
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তারের সিলমোহর মারতেও রোগীদের গুনতে হচ্ছে টাকা। এমনই অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান অফিস সহকারী (বড় বাবু) তালেব মোল্লার বিরুদ্ধে। তিনি সেবা নিতে যাওয়া সবার কাছ থেকে টাকা ছাড়া কাজ করেন না বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার কিংবা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতার স্বাক্ষর শেষে সিলমোহর মারতে সাধারণ মানুষের যেতে হয় প্রধান অফিস সহকারী (বড় বাবু) তালেব মোল্লার কাছে। সেখানেই তাঁকে দিতে হয় চা খাওয়ার টাকা। আর টাকা না দিলে সিলমোহর মারতে অনীহা প্রকাশ করেন বড় বাবু তালেব মোল্লা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জুলিয়েট পারউইনের নিকট থেকে একটি কাগজে স্বাক্ষর করে সিলমোহর মারার জন্য বড় বাবুর কাছে গেলে তিনি বলেন, সিলমোহর তো মারলাম, চা খাওয়ার বিলটা দিয়ে যাও। কারণ সিলমোহর মারতে হলে চা খাওয়ার টাকা দিতে হয়। তার এ কথা শুনে আমি বিষয়টি ডা. জুলিয়েট পারউইনকে জানাই।’
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, এর আগেও প্রধান অফিস সহকারী (বড় বাবু) তালেব মোল্লার বিরুদ্ধে বেশ কিছু ব্যক্তির নিকট থেকে সিলমোহর মারার নাম করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে।
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান অফিস সহকারী (বড় বাবু) আবু তালেব মোল্লার সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘সিলমোহর মেরে টাকা নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, এটা ঠিক না। আসলে সিলমোহর মারা শেষে আমি ওই ব্যক্তির নিকটে চা খাওয়ার কথা বলেছিলাম।’
এ প্রসঙ্গে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জুলিয়েট পারউইন বলেন, ‘জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান অফিস সহকারী আবু তালেবের বিরুদ্ধে আমার সিলমোহর মেরে টাকা নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছিল, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে ডাকা হয় এবং তিনি তাঁর ভুল স্বীকার করেন। আর কোনো দিন এ ধরনের কাজ করবেন না বলে জানালে তাঁকে প্রথমবারের মতো ক্ষমা করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে যদি এ ধরনের কোনো অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে পাওয়া যায়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
