ছবির ক্যাপশন:
করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চুয়াডাঙ্গায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম
মেহেরাব্বিন সানভী:
করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চুয়াডাঙ্গা জেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেছেন, ‘করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়তই নির্দেশনা দিচ্ছেন। আমরা প্রতিনিয়তই প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট দিই। গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন আমাদের। আসলে সরকার জানতে চাই। আপনারা সবকিছু খুলে বলবেন, আমরা সেটি জানব। এটি এমন একটি দুর্যোগ, যেটির পূর্ব কোনো অভিজ্ঞতা আমাদের ছিল না। আল্লাহর রহমতে আমরা এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। আসলে লকডাউনে মানুষকে ঘরে রাখা গেছে, তার প্রধান কারণ আমাদের কাছে খাদ্য ছিল। যদি খাদ্য না থাকত, না হলে মানুষকে ঘরে রাখা যেত না। এবারেও বাম্পার ফলন হয়েছে। খেয়াল রাখতে হবে, কেউ যেন সিন্ডিকেট তৈরি না করে, খাদ্য সংকট তৈরি না করে।’ গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধ, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে জেলা পর্যায়ে চলমান ত্রাণ কার্যক্রম এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমন্বয়ের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্টকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাকালে এসব কথা বলেন তিনি। পরে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) চিকিৎসায় নিয়োজিত জেলার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ মতবিনিময় সভার আগে সকালে তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের ১৫০ শয্যাবিশিষ্ট নতুন ভবন, করোনা রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাসহ সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
এদিকে, মতবিনিময় সভায় সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম আরও বলেন, লোকসমাগমে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণে জনসংখ্যা। সামনে কোরবানির ঈদ। স্বাস্থ্য সচেতনতায় কঠোর হতে হবে। সচেতনতায় হলো একমাত্র সুস্থ থাকার উপায়। গরুর হাট একটা মজার জায়গা। একজন কেনেন, আর দশজন সঙ্গে যান। এখানে স্বাস্থ্যবিধি মানানো আসলেই কষ্টকর বিষয়। সেজন্য যাতে বড় গরুর হাট না বসে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। স্বেচ্ছাসেবক থেকে শুরু করে সব প্রকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাজে লাগাতে হবে। দেশে কোরবানির গরুর স্বল্পতা নেই। ১ কোটি ২৫ লাখ কোরবানি উপযোগী গরু আছে। এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো খামারি বা কৃষকের এই গরুগুলো বিক্রি করানো। অনলাইনে পশু হাট প্লাটফর্ম তৈরি করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন। অবশ্যই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এখন জেলার খামারিদের এই গরুগুলো বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, কেউ যেন প্রতারণার শিকার না হয়। এখানে অনেক টাকা-পয়সার ব্যাপার। মানুষকে মোটিভেশন করতে হবে, বোঝাতে হবে যাতে তারা ঝুঁকি নিয়ে গরুর হাটে না যায়।
এ সময় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মিটিং করতে হবে। প্রয়োজনে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। চুয়াডাঙ্গায় আইসিইউ এবং পিসিআর ল্যাবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সরকারের কাছে এ বিষয়ে জানাব। এই সংকটকালীন সময়ে আপনারাদের প্রত্যেকটি চাওয়াকেই তুলে ধরা হবে।’
সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সামনে কোরবানির ঈদ। ইতোমধ্যে আমরা এটি ঈদ পার করেছি। এই ঈদের সবচেয়ে বড় সমস্যা কোরবানির পশু। আমি নিজ উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গায় অনলাইনে পশুহাটের একটি উদ্যোগ নিয়েছি। ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। মানুষ যাতে প্রতারিত না হয়ে সঠিক দামে পশু ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে, আবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে, সে বিষয়েও খেয়াল রাখা হচ্ছে।’ এ সময় জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, চুয়াডাঙ্গার হাসপাতালটির একটি ভবন ১ শ শয্যার আরেকটি নতুন ভবন ১৫০ শয্যার। নতুন ভবনটিতে আইসিইউ করা যাবে। সামান্য সরকারি সহযোগিতা পেলেই এটি সম্ভব। চুয়াডাঙ্গা জেলায় একটিও আইসিইউ না থাকায় এটি এখন সময়ের দাবি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এটি ইতোমধ্যে লিখেছি।’
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান, চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ ইয়াহ্ ইয়া খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাহিদুল ইসলাম, পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু, সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামিম কবির প্রমুখ।
