ছবির ক্যাপশন:
দর্শনা পৌর এলাকার দক্ষিণ চাঁদপুরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে
দর্শনা অফিস:
দর্শনায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে গ্রাহকের সঙ্গে লাইনম্যানের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দর্শনা পৌর এলাকার সব ওয়ার্ডে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও দর্শনা বাসস্ট্যান্ড তেঁতুলতলা পাড়া থেকে অবৈধ সংযোগ লাইনস্থলসহ দক্ষিণ চাঁদপুর ১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দর্শনা জোনাল অফিসের আওতাধীন দর্শনা দক্ষিণ চাঁদপুর হল্ট স্টেশন এলাকায় বাকপ্রতিবন্ধী ইকরামুল হক পার্শবর্তী একটি বিদ্যুৎ সংযোগ স্থান থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে চায়ের দোকান পরিচালনা করছিলেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুতের দর্শনা জোনাল অফিসের কর্মরত কর্মকর্তাসহ কয়েকজন বিদ্যুৎ লাইনম্যান দর্শনা হল্ট স্টেশন টারজান ক্লাব সংলগ্ন স্থানে উপস্থিত হন। এ সময় সরেজমিন উপস্থিত হয়ে তাঁরা দেখতে পান সেখানে বৈদ্যুতিক খুটি থেকে একটি চায়ের দোকানে অবৈধভাবে বৈদ্যুতিক সংযোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাকপ্রতিবন্ধি চায়ের দোকানদার ইকরামুল হকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা জানতে পারেন উক্ত চা দোকানি একজন বাকপ্রতিবন্ধী। এ সময় বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা মনবতা দেখিয়ে বিদ্যুৎ আইন প্রয়োগ না করেই মোবাইল ফোনে ভিডিয়োর মাধ্যমে একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করছিলেন। এ সময় একই এলাকার আকালে জোয়ার্দ্দারের ছেলে জসিম উদ্দিন ভিডিয়ো করা বিদ্যুৎ অফিসের লাইনম্যানকে ভিডিয়ো করতে নিষেধ করেন। পরে লাইনম্যান ও জসিমের মধ্যে দু-এক কথায় তর্কাতর্কি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা জানান।
তবে এ বিষয়ে জসিম বলেন, সেখানে বিদ্যুৎ অফিসের ওই ব্যক্তিকে ভিডিয়ো করতে নিষেধ করা হয়েছে। কোনো প্রকারের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায় দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে একজন ব্যক্তির কারণে পুরো গ্রামজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়াটা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। এদিকে, গতকালই রাত সাড়ে ১০টার দিকে ধস্তাধস্তি করা ব্যক্তি দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের স্টেশন সংলগ্ন জসিমের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ মিটার খুলে বিদ্যুৎ অফিসে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দর্শনা জোনাল অফিসের এজিএম (কম) শ্রী অমিত কুমার দাশ জানান, ‘বাকপ্রতিবন্ধী এক চায়ের দোকানি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম এবং বাকপ্রতিবন্ধী দেখে কোনো ধরনের বিদ্যুৎ আইন প্রয়োগ না করেই তাঁর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। পরে একই এলাকার জসিম নামের এক ব্যক্তি আমার লাইনম্যানের ওপর হঠাৎ করে কোনো না কোনো কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটায়। পরে লাইনম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে ওই গ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। পরে জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ চালু করা হয়েছে। অভিযুক্ত জসিমের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কতিপয় সাধারণ বিধি, যেটি বিদ্যুৎ বিলের পিছনে উল্লেখ রয়েছে। সাধারণ বিধির ৪-এর খ এবং ঘ নং ধারায় জসিমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
