ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজের কারণে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় পানি থাকছে না। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা বলছে, পরিমিত ভোল্টেজে বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলে পর্যান্ত পানি দেওয়া যাবে। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় সঠিক মানসম্পন্ন ভোল্টেজে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় নয়টি পানির পাম্পের মাধ্যমে সকাল ৬টা থেকে ৯টা, দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটা, বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা এবং রাত পৌনে নয়টা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত এই চারটি সময়ে পানি সরবরাহ করা হয়। গত কয়েকমাস যাবৎ পৌর এলাকার পানি সরবরাহে নানা সমস্যা হচ্ছে। ঠিকমতো পানি পাচ্ছে না পৌর এলাকার বাসিন্দারা।
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার নয়টি পাম্পের পানির লাইন একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। একসঙ্গে চালু করে পানি সরবরাহ করা হয়। গত কয়েক মাস লো-ভোল্টেজ বা অপ্রতুল বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে একসঙ্গে পাম্পগুলো চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে দুপুর ও রাতে ৯টি পাম্পের মধ্যে ৪টি অথবা আরও অধিক সংখ্যক পাম্প চালানো সম্ভব হয় না। লো-ভোল্টেজে পাম্প চালানোর কারণে ইতোমধ্যে মাঝেরপাড়া, মাস্টার পাড়া ও সদর উপজেলা চত্বরের তিনটি পাম্পের মোটর পুড়ে গিয়েছিল। সেগুলি মেরামতে প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। মেরামত করে চালু করা হলেও আবার লো-ভোল্টেজের কারণে সেগুলো চালানো যাচ্ছে না বা নষ্ট হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে পৌরসভা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একইসঙ্গে গ্রাহক নাগরিক সেবায় সমস্যা হচ্ছে। এ বিষয়ে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) চুয়াডাঙ্গার বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে একাধিকবার চিঠি লিখে ও মুঠোফোনে বিষটি জানিয়েছেন পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু। তারপরও পরিমিত বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যায়নি।
এদিকে, করোনাভাইরাসজনিত মহামারি পরিস্থিতিতে কৃষির উৎপাদন স্বাভাবিক রাখাসহ লকডাউনজনিত কারণে সব শ্রেণির গ্রাহককে নিরবচ্ছিন্ন ও সঠিকমানের ভোল্টেজে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে। অপর দিকে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা জাফরপুর ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র হতে সঠিকমানের ভোল্টেজ লেভেলে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। ওজোপাডিকোর আওতাধীন চুয়াডাঙ্গা ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রটি জাফরপুর ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড হতে মাত্র ৩.৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হলেও পিক আওয়ারে ভোল্টেজ লেভেল ২৬ কেভি পর্যন্ত নেমে যাচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে ওজোপাডিকো চুয়াডাঙ্গার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ময়নুদ্দিন জানান, গত ১৫ এপ্রিল এবং ২১ জুন এ বিষয়টি বিস্তারিত জানিয়ে ঝিনাইদহের জিএমডি, পিজিসিবির নির্বাহী প্রকৌশলীকে লিখিত আকারে সঠিক মানসম্পন্ন ভোল্টেজে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অনুরোধ করেছি। যদি পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়, তাহলে লো-ভোল্টেজের এই সমস্যা থাকবে না।
চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু বলেন, ‘নাগরিক সেবা দিতে আমরা বদ্ধ পরিকর। গত কয়েকমাস পানি সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। এর মূল কারণ বিদ্যুৎ। পাম্পগুলো চালাতে বিদ্যুতের প্রয়োজন। লো-ভোল্টেজের কারণে তিন পাম্পের মোটর পুড়ে গিয়েছিল। সেগুলি মেরামত করে চালানো হচ্ছে। তবে আরও এরকম ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আছে। প্রতিদিনই এই লো-ভোল্টেজের কারণে ৪টা বা তার অধিক পাম্প চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আমি নিজে একাধিকবার লিখিত আকারে এবং মুঠোফোনের মাধ্যমে বিষয়টি ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। সঠিক মানসম্পন্ন বিদ্যুতের সরবরাহ পেলে এই সমস্যা হবে না।’
পৌর মেয়র আরও বলেন, ‘১৯৮৫ সালে চুয়াডাঙ্গায় প্রথম পানি সরবরাহ করা হয়। অনেক পাইপ ছিল বহু পুরোনো। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি নজরে এলে সেগুলো পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করেছি। এখন আর আগের মতো পানিতে ময়লা বা আয়রন যায় না। এ ছাড়াও বর্তমানে নতুন নতুন লাইন স্থাপন করা হচ্ছে। যেগুলোতে পানির প্রবাহ খুব ভালো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৩য় তলায়ও পানি অনায়সে উঠানো যাচ্ছে। সবমিলিয়ে আমি পৌরবাসীকে উন্নত নাগরিক সেবা দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু পৌরবাসীকে আশ্বস্ত করে এবং বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিদ্যুতের সরবরাহের জন্য বারবার লিখছি। প্রয়োজনে আরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেব। এ সমস্যা অচিরেই সমাধান করা হবে।
