আগস্ট মোকাবিলাই চ্যালেঞ্জ

আপলোড তারিখঃ 2020-07-08 ইং
আগস্ট মোকাবিলাই চ্যালেঞ্জ ছবির ক্যাপশন:
প্রকোপ কমার পূর্বাভাস নিয়ে সংশয় জনস্বাস্থ্যবিদদের সমীকরণ প্রতিবেদন: করোনাভাইরাস সংক্রমণের চলমান ঊর্ধ্বমুখী ধারা চলতি মাসজুড়েই অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্যবিদরা। জুনের মাঝামাঝি দেওয়া ওই পূর্বাভাসে অবশ্য বলা হয়েছিল, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চললে আগস্টে আক্রান্তের হার নিম্নমুখী হতে পারে। তবে আগামী ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আট সদস্যের ওই কমিটির দেওয়া পূর্বাভাস পাল্টে যেতে পারে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে সারাদেশে বসবে হাজার হাজার পশুর হাট। এসব হাটে কোরবানির পশু কেনাবেচায় জনসমাগম হবে। একই সঙ্গে ঢাকাসহ বিভিন্ন নগর থেকে লাখ লাখ মানুষ গ্রামমুখী হবেন। ঈদের ছুটি শেষে আবার তারা কর্মস্থলে ফিরবেন। এ অবস্থায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। ফলে আগস্টে সংক্রমণ কমে আসার যে পূর্বাভাস জনস্বাস্থ্যবিদরা দিয়েছিলেন তা নাও মিলতে পারে। বরং সংক্রমণ আরও আশঙ্কাজনকহারে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের অভিমত, করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যেই জুলাইয়ের শেষে অথবা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে যাচ্ছে। ফলে আগস্ট মাসটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে আগস্টে সংক্রমণের হার নিম্নমুখী হওয়ার যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি বিশ্নেষণ করলে দেখা যায়, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ একজনের মৃত্যু হয়। সংক্রমণের হিসাবে গতকাল সোমবার ছিল ১২১তম দিন। এই সময়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার ৬১৮ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন দুই হাজার ৯৬ জন। করোনা সংক্রমণের ৮৪তম দিনে গত ৩১ মে পর্যন্ত ৪৭ হাজার ১৫৩ জন আক্রান্ত হন। ওই সময় পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ৬৫০। ১ থেকে ৩০ জুন পরবর্তী ৩০ দিনে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৮ হাজার ৩৩০ জন এবং ১ হাজার ১৯৭ জন মৃত্যুবরণ করেন। অর্থাৎ মোট সংক্রমণের ৬৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং মোট মৃত্যুর ৬৪ দশমিক ৮০ শতাংশ হয়েছে এই সময়ে। জুন মাসে প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ২৭৮ জন করে মানুষ আক্রান্ত এবং প্রায় ৪০ জন করে মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। ১ থেকে গতকাল ৭ জুলাই পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ১৩৫ জন। একই সময়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ২৪৯ জন। অর্থাৎ সর্বশেষ জুলাইয়ের ছয় দিনে প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ৩৩৫ দশমিক ৮৩ জন আক্রান্ত এবং ৪১ দশমিক ৫০ জন করে মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৮ লাখ ৬০ হাজার ৩০৭ জনের। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬১৮ জনের। এ হিসাবে পরীক্ষায় শনাক্তকরণ হার ১৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। মৃত্যুবরণ করেছেন ২০৯৬ জন। মৃত্যুহার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৭৬ হাজার ১৪৯ জন। সুস্থতার হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। জুনের তুলনায় জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে আক্রান্ত ও মৃত্যুহার বেশি। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সংক্রমণের হার স্থিতিশীল রয়েছে। একই সঙ্গে ভাইরাসের রিপ্রোডাকশান রেট অর্থাৎ একজন আক্রান্ত ব্যক্তি কতজনকে সংক্রমিত করার ক্ষমতা রাখে সেটিও গত দুই সপ্তাহে ১ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এটি আশাব্যঞ্জক। তথ্য-উপাত্ত বিশ্নেষণ করে ধারণা করছি, সব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা একসঙ্গে কার্যকর রাখলে জুলাইয়ের শেষ নাগাদ সংক্রমণ নিম্নমুখী হওয়া শুরু করতে পারে। ঈদকে সামনে রেখে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে ডা. আলমগীর বলেন, এতে সংক্রমণ আবারও ঊর্ধ্বমুখী রূপ নিতে পারে। সুতরাং এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)