ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা ও দামুড়হুদার পৃথক স্থানে করোনা উপসর্গ নিয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার পৃথক সময়ে এ দুজনের মৃত্যু হয়। করোনা উপসর্গে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিরা হলেন চুয়াডাঙ্গা শহরের মালোপাড়ার আরা হালদার ওরফে তারা (৪৫) এবং দামুড়হুদা উপজেলার পুড়াপাড়া গ্রামের ইদ্রিস আলি মালিতার স্ত্রী (৬৫)।
জানা যায়, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে চুয়াডাঙ্গা মালোপাড়ার আরা হালদার ওরফে তারা নামের এক মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আরা হালদার ভন্ত ওরফে ভোলা হালদারের ছেলে।
জানা গেছে, ২০ থেকে ২২ দিন আগে কিডনির সমস্য নিয়ে ঢাকায় যান আরা হালদার। সেখানে তিনি শ্যামলীর একটি কিডনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে তাঁর শরীরে করোনার লক্ষণ দেখা দিলে গত বৃহস্পতিবার তাঁর নমুনা নিয়ে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য পাঠালে গত শুক্রবার তাঁর করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আছে। তাঁর শরীরে করোনা শনাক্ত হওয়ায় পরবর্তীতে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়। ঢাকা মেডিকেলের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি মারা যান।
এদিকে, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তাঁর লাশ চুয়াডাঙ্গায় পৌঁছালে তাঁর মরদেহ সমাধি করা হয় এবং তাঁর সংস্পর্শে থাকা তাঁর স্ত্রী ও ভগ্নিপতিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলশনে রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামীম কবির জানান, নিহত আরা হালদারের সংস্পর্শে থাকা তাঁর স্ত্রী ও ভগ্নিপতিকে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। আজ তাঁদের নমুনা টেস্টের জন্য পাঠানো হবে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জিহাদ বলেন, করোনায় নিহত আরা হালদারের বাসা লকডাউন করা হয়েছে।
দামুড়হুদা:
ঢাকায় বসবাসকারী দামুড়হুদা পুড়াপাড়ার বয়স্ক এক নারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তি পুড়াপাড়া গ্রামের ইদ্রিস আলী মালিতার স্ত্রী। গতকাল শনিবার ভোর ছয়টার দিকে ঢাকা সিএমএইচ-এ তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত ব্যক্তির ছেলে আব্দুল হান্নান জানান, দামুড়হুদা উপজেলার পুড়াপাড়ার ইদ্রিস আলী মালিতার স্ত্রী অসুস্থ হলে গত ৩০ জুন ঢাকা সিএমএইচ সেনাবাহিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁর করোনাভাইরাস হয়েছে কি না, তা নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে ১ জুলাই তাঁর করোনাভাইরাস পজিটিভ রিপোর্ট আসে। সে থেকেই তিনি ঢাকা সিএমএইচ-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শনিবার ভোর ৬টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত ব্যক্তির লাশ তাঁর গ্রামের বাড়ি পুড়াপাড়ায় শনিবার রাত ১০টার সময় পৌঁছায়। পরে দামুড়হুদা উপজেলার ইসলামিক ফাউডেশনের উদ্যোগে রাত সাড়ে ১০টার দিকে জানাজা শেষে তাঁর নিজ গ্রামে দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়। দামুড়হুদা উপজেলায় এ নিয়ে মোট চারজন ব্যক্তি করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেল।
