ছবির ক্যাপশন:
জীবননগরের সরকারি ঘর দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়াসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ
জীবননগর অফিস:
জীবননগরে বাঁকা ও হাসাদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং হাসাদহের এক ইউপি সদস্যকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সাময়িকভাবে বহিস্কার করেছে। গতকাল বুধবার রাতে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মুনিম লিংকন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া প্রতিশ্রতি ‘জমি আছে ঘর নেই’ প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে ঘর দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে অর্থ কেলেঙ্কারিসহ দুর্যোগ সহনীয় ঘর তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগে ওঠে বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের প্রধান, হাসাদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবি বিশ^াস এবং হাসাদহ ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওর্য়াড কাউন্সিলর আশরাফুল ইসলাম শ্যামলের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদের সব কার্যক্রম থেকে তাঁদের সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মুনিম লিংকন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের সুটিয়া গ্রামের এক প্রতিবন্ধীর নিকট থেকে ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ঘর তৈরি করায় ওই ব্যক্তি বাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের প্রধানের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি অভিযোগ করেন। একই অভিযোগ করেন হাসাদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবি বিশ^াস এবং ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম শ্যামলের বিরুদ্ধে হাসাদহ গ্রামের দরিদ্র কৃষক রাজু। শুধু তাই নয়, রাজু শ্যামল মেম্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় তাঁর ঘরটির কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। এসব নানা অনিয়ম ও অর্থ নেওয়ার অভিযোগে তাঁদের সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়।
এ প্রসঙ্গে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুনিম লিংকন জানান, ‘বুধবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি আসে। সেখানে বলা হয়, দুর্যোগ সহনীয় ঘর তৈরিতে আর্থিক লেনদেনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে দুইজন ইউপি চেয়ারম্যান ও একজন ইউপি সদস্যকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হলো। বাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের প্রধান ও হাসাদহ ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবি এবং হাসাদহ ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর সদস্য আশরাফুল ইসলাম শ্যামলকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তাঁদের স্থায়ীভাবে কেন বহিস্কার করা হবে না, এ বিষয়ে কারণ দর্শানার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে, দুজন ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বহিস্কার নিয়ে উপজেলাজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
