ছবির ক্যাপশন:
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে বিএনপি নেতা মাসুদ অরুন
মেহেরপুর অফিস:
মেহেরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের উদ্যোগে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মহীন ৩ শ পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ অরুন বলেন, ‘মেহেরপুর পৌর বিএনপির উদ্যোগে আমরা ৫ম দিনে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছি। করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ আজ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। মেহেরপুর শহর, পৌরসভা, সদর উপজেলা, গাংনী উপজেলা ও মুজিবনগর উপজেলায় আমাদের সামর্থ্যরে মধ্য থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছি।’ তিনি বলেন, ‘সব থেকে গুরুত্বের বিষয় ত্রাণ তৎপরতার বিষয়টি। ৫ থেকে ১০ কেজি চাল, ১০ টাকা কেজি চালের একটা গুরত্ব আছে বটে। কিন্তু এর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো জীবন। জীবন যদি না বাঁচে, তাহলে ৫ থেকে ১০ কেজি চালে আসল সমস্যার সমাধান হবে না। আমি মনে করি মেহেরপুরের স্বাস্থ্যসেবা খাতে আরও প্রয়োজনীয় দৃষ্টি দেওয়ার দরকার। মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ও সংকট রয়েছে চিকিৎসকের।’ তিনি বলেন, ‘করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর পর তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হচ্ছে এবং শোনা যাচ্ছে উনি পজেটিভ। কিন্তু তার আগে কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আমরা পরিস্কার দাবি জানাতে চাই, মেহেরপুরের এ অঞ্চল কৃষি প্রধান অঞ্চল। এ অঞ্চলের মানুষ গরীব। আমরা লক্ষ্য করছি পুলিশ গিয়ে করোনা পজেটিভের বাড়িতে একটা লাল পতাকা টাঙিয়ে দিয়ে আসছেন, যে হোম কোয়ারেন্টাইন হবে। আমাদের মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত, গরীব পরিবারে একই থালায় যারা খাই, বাড়িতে বসে হোম কোয়ারেন্টাইন হবে না। হোম কোয়ারেন্টাইনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিতে হবে, তাহলে এই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া যাবে। প্রমাণ করা হচ্ছে মেহেরপুরে করোনা রোগীর সংখ্যা একেবারে কম। আমি বলছি, ভেতরে ভেতরে মানুষ খুবই উৎকণ্ঠা এবং বিপদগ্রস্ত মানষিকতায় আছে। আজ করোনা আক্রান্ত রোগীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু সেই অর্থে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না।’
সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুন আরও বলেন, মেহেরপুরকে রেড জোন ঘোষণা করে ইনসেনসেটিভ কেয়ার, আইসোলেশন বেড এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানাচ্ছি। মেহেরপুর জেলার করোনার পরীক্ষা কুষ্টিয়াতে নয়, মুজিবনগরে পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। হাসপাতালে গেলে ডাক্তার রোগীর গায়ে হাত পর্যন্ত দিতে চায় না। আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি হাসপাতালের অনেক ডাক্তার, পুলিশ ভাইয়েরা জনগণের জনস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত এবং মৃতুবরণ করেছে। সবার জীবন যখন গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক সে মুহূর্তে এখনও সময় আছে করোনা প্রতিরোধে ডাক্তার থেকে শুরু করে প্রশাসন বিভাগের এবং যারা কর্মরত আছে তাদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। যারা ত্রাণ দিচ্ছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই।’
এ সময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা বিএনপিরর সহসভাপতি আনসারুল হক, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশিদ, যুগ্ম সম্পাদক আরজুল্লাহ মাস্টার বাবলু, জেলা বিএনপির অন্যতম নেতা শাজাহান সাহান, বিএনপির নেতা আব্দুল হালিম, মেহেরপুর জেলা যুবদলের সহসভাপতি মোশারফ হোসেন তপু, যুগ্ম সম্পাদক সাইদুর রহমান সুজন, নওশেল আহমেদ রনি, সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিদুল ইসলাম সাইদুর, মুজিবনগর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম, মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি আকিব জাভেদ সেনজির, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ বিন রফিক সিজার, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাশেদুল ইসলাম রাজনসহ জেলা বিএনপির অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
