ছবির ক্যাপশন:
প্রতিবেদক, দামুড়হুদা:
গত ২৪ জুন মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন দামুড়হুদা গুলশানপাড়ার বাসিন্দা মো. ছানোয়ার হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডস্থ তাঁর নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, গত ২৪ জুন তারিখে আমার বিরুদ্ধে করা সংবাদ সম্মেলনে বিবাদী যা বলেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত। বিবাদী দামুড়হুদা জয়রামপুর শেখপাড়ার মৃত আব্দুল মোতালেবের মেয়ে মুসলিমা খাতুন সংবাদ সম্মেলন করে আমার বিরুদ্ধে ৫ রাখ ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ওই সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। তাছাড়া হত্যার হুমকিসহ মারধরের যে অভিযোগ করা হয়েছে তাও মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। তিনি আরও বলেন, আমি দামুড়হুদা উপজেলার একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা। আমার বিরুদ্ধে এ ধরণের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ সম্মেলন করাটা অত্যন্ত সম্মানহানিকর। আমি দির্ঘ ২৫ বছর সততা ও নিষ্ঠার সাথে ব্যাংকে চাকরি করেছি। এ ছাড়া বিগত ৫ বছর সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছি। একটি কুচক্রি মহল আমাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করতে উল্লেখিত মুসলিমা খাতুনকে প্রোলোভিত করে আমার নামে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে। বিবাদির আনিত অভিযোগের কোন প্রমান নেই। তিনি আরও বলেছেন, একজন ব্যবসায়ী কিভাবে অন্য একজনকে সরকারি চাকরি দিতে পারে। তাছাড়া বিদাদী মুসলিমা খাতুন একজন সরকারি চাকরিজীবি। তাই তাকে চাকরি দেয়ার লোভ দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ কোনভাবেই বিশ্বাসযোগ্য হতে পারেনা। তার এ ধরণের মিথ্যা বক্তব্য দেশের চাকরি নিয়োগ ব্যবস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দু:খজনক। তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীক লেনদেনের সূত্র ধরে মুসলিমা খাতুনের সাথে আমার পরিচয় হয়। সে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠঅন থেকে ৮ লাখ টাকার মাল বাকীতে নেন, যার হিসেব মেমো সবকিছুই আছে। পরে নির্দিষ্ট সময় অতিক্রিম হলে সে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। আমাকে বিভিন্নভাবে ঘুরিয়ে অন্য প্রলোভন দেখাতে থাকে। আমি রাজ না হলে সে আমাকে মেহেরপুরে গিয়ে টাকা নিয়ে আসতে বলে। আমি পাওনা টাকা মেহেরপুরে নিতে গেলে মুসলিমা খাতুন ৮/১০ বখাটে গোন্ডা ভাড়া করে আমাকে একটা রুমে আটকিয়ে জোরপূর্বক কাবিননামায় সই করিয়ে নেয় এবং সে তার নিজের ইচ্ছেমত সাত লাখ টাকা কাবিননামায় লিখে নেয়। প্রাণ রক্ষার তাগিদে ওই কাগজে সই করা ছাড়া আমার আর কোন উপায় ছিল না। পরবর্তীতে মুসলিমা খাতুন আমার প্রতিষ্ঠানের পাওনা ৮ লাখ টাকা না দিয়ে কাবিনের ৭ লাখ টাকা আদায় করার জন্য সে তার মেয়েকে সাথে নিয়ে বিভিন্নভাবে আমাকে হেনস্থা করতে থাকে। পরবর্তীতে সে আমার নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এই ঘটনা ছাড়াও মুসলিমা খাতুনের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে অন্য আরও কয়েকজন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিকে তার জাতাকলে পিষ্ঠ করে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ করে বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার প্রমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, আমি কিছুদিন পূর্বে তাকে আদালতের মাধ্যমে তালাক দিয়ে দিয়েছি এবং মামলাটি চলমান রয়েছে। আমি আশাবাদী বিজ্ঞ আদারতে আমি ন্যায় বিচার পাব। এমতাবস্থায় আদারতে চলমান মামলা থাকা সত্ত্বেও সংবাদ সম্মেলন করে আমার নামে মিথ্যা ও বানোয়াট খবর ছড়িয়ে আমাকে সামজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টাকে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। সম্মানিত সংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে আমি আরও একটি বিষয় জানাতে চায়, মসুলিমা খাতুনের মাসিক বেতন ১৮ হাজার টাকা। অথচ সে যশোরের চৌধুরী গোল্ড থেকে স্বর্ণালংকার বানায়, গ্রাম থেকে খাসি জবাই করে ফ্রিজে ভর্তি করে রাখে। তার প্রতিমাসের বাসা ভাড়া ৮ হাজার টাকা, মেয়ের পটড়ালেখা বাবদ প্রতিমাসে খরচ হয় ৮ হাজার টাকা। ডিপিএস চালাই প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা, ব্যাংকে কিস্তি দেয় প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা। এ ছাড়া তার বাসায় কাঠের তৈরী দামি দামি ফার্নিচারে সাজানো। মাত্র ১৮ হাজার টাকা বেতন পেয়ে এত খরচ একজন মহিলা কিভাবে বহন করে ? তার এই বিশাল লাক্সারী জীবনযাপনের খরচ কোথা থেকে আসে ? আপনারা তদন্ত করে দেখুন। থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। মুসলিমা খাতুন ১০ থেকে ১৫ টি মোবাইল সীম ব্যবহার করে। সে একজন ধান্দাবাজ মাহলা। সে সমাজের প্রতিষ্ঠিত ও বিত্তবান ব্যক্তিদের কাছে ছলে বলে কৌশলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। সম্মানহানীর ভয়ে অনেকেই প্রকাশ করতে পারেনা।
