ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ প্রতিবেদন:
এবার সৌদি আরবে যারা অবস্থান করছেন, শুধু তারাই হজ করার সুযোগ পাবেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। গত সোমবার সৌদি আরবের হজ এবং ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দেয়। তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। শেষ মুহূর্তে এসে এ বছর বাংলাদেশ থেকে কেউ হজে যেতে পারবেন না সৌদি আরবের এমন ঘোষণায় হতাশ হয়ে পড়েছেন হজযাত্রীরা। বিশ্বব্যাপী করোনার ছোবলে এবার শুধু সৌদি আরবে অবস্থানরতদের মাঝেই সীমিতাকারে হজের সিদ্ধান্তে হজযাত্রীদের মাঝে এমন বিপর্যয় নেমে আসে। এদিকে যারা এবার হজে প্রাক নিবন্ধন করেছেন তাদেরকে হয় অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তী বছরের জন্য; নয় টাকা উত্তোলন করে নিতে পারবেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতি কিভাবে মোকাবেলা করা হবে- কেউ টাকা ফেরত নিতে চাইলে কিভাবে সেটা দেয়া হবে- এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আজ (বুধবার) জরুরী বৈঠক ডাকা হয়েছে। হাব সভাপতি শাহাদত হোসাইন তসলিম এমনই ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য। তবে সৌদি আরব সারাবিশ্বের মানবজাতির কল্যাণের কথা বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা তাদের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই সব কিছু মেনে চলব।
সৌদি আরবের ঘোষণায় বলা হয়, শুধু সৌদি আরবে অবস্থানরত বিদেশী নাগরিক এবং সৌদি নাগরিকরা এবারের হজ পালন করতে পারবেন। অন্য কোন দেশ থেকে কেউ এবার হজ করতে আসতে পারবেন না। করোনা মহামারীর জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি সরকার। গতবছর বিশ্বের প্রায় ২৫ লাখ মানুষ হজ করেছিলেন। কিন্তু এবার বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ এর ব্যাপকতায় হজের পরিসর সীমিত করা হয়েছে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনকে টেলিফোনে জানিয়েছেন, দুনিয়াব্যাপী করোনা তাণ্ডবের দরুন এবার হজে এক হাজারের কম লোক অংশ নেবেন। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়Ñ সোমবার সন্ধ্যায় সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনকে টেলিফোন করেন। এ সময় করোনাভাইরাসের কারণে ঐতিহ্যগত হজ বাতিলের বিষয়ে অবহিত করেন। এবার হজে এক হাজারের কম লোক (দেশী- বিদেশী) অংশ নেবেন বলে জানান সৌদির মন্ত্রী। ড. মোমেন এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মতে, এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যাওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। পরে বার বার নিবন্ধন ও প্রাক নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হয়। এতে বাংলাদেশের সব কোটার বিপরীতে টাকা সংগ্রহ করা হয়। সরকারী ব্যবস্থাপনায় (ব্যালটি) গমনেচ্ছুরা প্যাকেজের সব টাকাই জমা দিয়েছেন। বেসরকারী (নন-ব্যালটি) ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে ইচ্ছুকরা পুরো প্যাকেজের অর্ধেক টাকা জমা দেন। কিন্তু করোনা তাণ্ডবে দুনিয়ার সব ওলটপালট হয়ে গেলেও হজযাত্রীরা এতদিন ধৈর্য ধরেছিলেনÑ শেষ মুহূর্তে হলেও একটা সুখবর আসবে সৌদি আরব থেকে। কিন্তু সোমবার রাতে সৌদি আরবের হজ সংক্রান্ত খবরটি বাংলাদেশের হজযাত্রীদের মাঝে চরম দুঃসংবাদ হিসেবে নেমে আসে। অনেক হজযাত্রীকেই গতকাল মঙ্গলবার তাদের এজেন্সির কাছে হজের পরবর্তী করণীয় বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে দেখা গেছে। তাদের অনেককেই টাকা ফেরতের বিষয়েও নিজ নিজ এজেন্সির প্রতিনিধির কাছে ধর্ণা দিতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হজ সংক্রান্ত সরকারের অন্যতম নীতিনির্ধারক সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন বলেন, সৌদি আরব যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা সমগ্র মানবজাতির কল্যাণের জন্যই। বিশ্ব মহামারীর মাঝে যদি এবার হজ হতো, তাহলে কি বাংলাদেশী হজযাত্রীদের সেখানে পাঠানো ঠিক হতো? স্বাস্থ্য নিরাপত্তার এমন নিশ্চিত ঝুঁকির মাঝে তাদের পাঠানো হলেও সেটা নিয়েও কথা উঠত। কাজেই আমি মনে করি- সৌদি আরব যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বের মানবজাতির কল্যাণেই। তবে এ সিদ্ধান্তের দরুন বাংলাদেশের যারা টাকা জমা দিয়েছেন তারা যাতে কেউ প্রতারণার শিকার না হন সেটা নিশ্চিত করতে হবে। কেউ আগামী বছর যেতে না পারলে দ্রুত টাকা ফেরত প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় আগামীবারের জন্য ধৈর্য ধারণের পরামর্শ দিতে হবে।
উল্লেখ্য, সোমবার হঠাৎ ঘোষণা আসেÑকরোনা তাণ্ডবের দরুন এবার শুধু সৌদি আরবে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের নাগরিক এ মৌসুমে হজে অংশ নিতে পারবেন। তাই এবার বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোন দেশের নাগরিকই হজে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি হজে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও হবে সীমিত। এ বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ হজ অফিসের কাউন্সিলর (হজ) মোঃ মাকসুদুর রহমান ঢাকার গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেনÑ সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় আমাদের অফিসিয়ালি জানিয়েছে। ফলে তাদের এ সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ থেকে কেউ আর হজে যেতে পারছেন না। শুধু বাংলাদেশ নয়, সৌদি আরবের বাইরে থেকে কেউ এসে হজে অংশ নিতে পারবেন না। গত বছর ২৫ লাখ মুসলমান হজে অংশ নিয়েছিলেন। তবে এবার সৌদি আরবের এ সিদ্ধান্তের কারণে বিভিন্ন দেশ থেকে হজে অংশ নেয়ার সুযোগ আর থাকছে না।
