৯ দিন পার হলেও হয়নি কোনো সুরাহা

আপলোড তারিখঃ 2020-06-24 ইং
৯ দিন পার হলেও হয়নি কোনো সুরাহা ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার ফুরশেদপুরে যুবককে ধরে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন প্রতিবেদক, হিজলগাড়ী: চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের ফুরশেদপুর গ্রামে সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীর সাথে মোবাইলে কথা বলার জেরে সদ্য এএসসি পাশ করা এক যুবককে ধরে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করার হয়েছে। থানায় অভিযোগ দেয়ার ৯ দিন পার হলেও নেয়া হয়নি কোন সুরাহা। সুষ্ঠ বিচারের দাবি নির্যাতনের শিকার ছাত্রের পরিবার ও এলাকাবাসীর। জানা গেছে, গত ১৪ই জুন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের ফুরশেদপুর গ্রামের মাঝেরপাড়ার দিনমজুর আবু শামার ছেলে সদ্য এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করা মুক্তার মন্ডল ( ১৭) বেগমপুর কলোনী পাড়া বাজারের ইলেকট্রক্সি এর কাজ শিখে বাড়িতে আসার সময় রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে বেগমপুর ও ফুরশেদপুর সড়কের কবরস্থান নামক স্থানে পৌঁছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা একই গ্রামের মিজানুরের ছেলে পিয়াস (২৫), সেলিম উদ্দিনের ছেলে আশিক (২২) ও মসলেমের ছেলে তুহিন মুক্তারের গতিরোধ করে জোরপূর্বক মাঠের মধ্যে ধরে নিয়ে বেধরক মারপিট করে। মারপিটের একপর্যায়ে মুক্তার মারাক্তক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ধরে নিয়ে অভিযুক্তরা একই গ্রামের রহিম বক্সের ছেলে প্রভাবশালী শাহানুরের হাতে তুলে দেয়। পরে শাহানুর তাকে বৈদ্যুতিক পোলের সাথে বেঁধে ২য় দফায় মারপিট শুরু করে। শাহানুরের সাথে যোগ দেয় তার ভাই মিজানুর, মহিদ এর ছেলে রাহুল, নুরু ইসলামের ছেলে রিপন সহ ৭/৮জন। মধ্যযুগীয় কায়দায় মুক্তারকে নির্যাতন করে মৃত্যুপ্রায় অবস্থায় ফেলে রাখে। এসময় মিজানুর মুক্তারের পিতা আবু শামার কাছে মোবাইলে কল দিয়ে তার ছেলেকে ধরে রাখা হয়েছে এসে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে। কোনকিছু না বুঝে ঘটনাস্থলে গিয়ে আবু শামা দেখে তার ছেলেকে অমানষিকভাবে নির্যাতন করে ফেলে রাখা হয়েছে। পরে নির্যাতনের কারণ জানতে চাইলে শাহানুর জানান, মুক্তার তাঁর মেয়ে পাশ্ববর্তী একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীর সাথে মোবাইলে প্রেম করে। সে কারণে তাকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। মুক্তারকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে প্রথমে দর্শনা থানাতে গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করে মুক্তারের পিতা। সেখান থেকে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। এদিকে মুহুর্তে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে পুরো মহল্লায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরদিন এই ঘটনার জেরে সামাজিকভাবে মাঝেরপাড়ার লোকজন উত্তরপাড়াকে বর্জনের ঘোষণা দিয়ে তাদের সাথে সকল প্রকার সামাজিক যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এলকাবাসী। অন্যদিকে, ঘটনার ৯ দিন পার হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছে ভোক্তভোগী মুক্তারের পিতা। তিনি সময়ের সমীকরণকে বলেন, আমার ছেলের যদি অপরাধ হয় দেশে আইন আছে, তাকে আইনের কাছে সোপর্দ করতো। এভাবে কেনো অমানষিকভাবে নির্যাতন করা হলো। নির্যাতনের শিকার মুক্তার হোসেন মোবাইলে শাহানুরের মেয়ের সাথে কথা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলে শাহানুরের মেয়েই তাকে প্রথম থেকে মোবাইলে যোগাযোগ শুরু করে। পরে আমাদের মধ্যে এবছর মার্চ মাস থেকে মাঝে মাঝে কথা হত। এ বিষয়ে ফুরশেদপুর গ্রামের আ.লীগ নেতা নুরু বলেন, সামান্য মোবাইলে কথা বলাকে কেন্দ্র করে যেভাবে মুক্তারকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। তিনি দোষীদের শাস্তি দাবি করেন। একই গ্রামের আরেকজন আ.লীগ নেতা জলিল উদ্দিনও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দোষীদের শাস্তির দাবি করেন। ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের মধ্যে মিজানুরের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হালকা-পাতলায় মারধর করা হয়েছিল। এটা নিয়ে বাড়াবাড়ির কিছু নেই। এ বিষয়ে দর্শনা থানার ওসি মাহবুবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য দুই পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। তবে বাদী পক্ষ থানায় আসেনি।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)