আলমডাঙ্গায় বিকাশ প্রতারণা চক্রের চাঞ্চল্য তথ্য ফাঁস!

আপলোড তারিখঃ 2020-06-23 ইং
আলমডাঙ্গায় বিকাশ প্রতারণা চক্রের চাঞ্চল্য তথ্য ফাঁস! ছবির ক্যাপশন:
প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা: আলমডাঙ্গায় উত্তরা ট্রেডার্সে ভুয়া সিআইডির পরিচয় দিয়ে বিকাশ প্রতারণার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার আলমডাঙ্গায় থানার তদন্ত কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বিকাশ প্রতারণা মামলায় বিকাশে ২৫ হাজার ৫ শ টাকা ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২ এপ্রিল ভুয়া সিআইডির এসপি পরিচয়ে আলমডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহিমের নিকট সরকারি মোবাইল নম্বরে (০১৭৪৩-৫৯২৯৩২ এ নম্বর থেকে) ফোন দিয়ে তাঁকে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার পুরাতন বাজারে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গিরিধারী মোদির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উত্তরা ট্রেডার্সের ম্যানেজারের নিকট কথা বলানোর জন্য বলা হয়। ওই দিন থানায় ডিউটি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এসআই আব্দুর রহিম। এসপির পরিচয়ের কারণে তিনি জরুরি কিলো দায়িত্বে থাকা এসআই সিদ্ধার্থকে নির্দেশ দেন ফোনে কথা বলানোর জন্য। ওইদিনই বেলা তিনটার দিকে এসআই সিদ্ধার্থ মোবাইলের মাধ্যমে প্রতারক ভুয়া এসপির সঙ্গে ম্যানেজারের কথা বলিয়ে চলে আসেন। পরে উত্তরা ট্রেডার্সের ম্যানেজার মহেষ কুমার ভৌতিকার নিকট ত্রাণ দেওয়ার জন্য ১ লাখ টাকা দাবি করেন ওই ভুয়া এসপি। তিনি ১ লাখ টাকা দিতে অপরাগতা স্বীকার করেন। পরে প্রতারক চক্র তাঁকে ৫০ হাজার টাকা দিতে বলেন। সিআইডির ভুয়া এসপি আতিকুর রহমান চুয়াডাঙ্গায় অবস্থানের কথা বলে দ্রুত টাকা পৌঁছে দিতে বলেন। উত্তরা ট্রেডার্সের ম্যানেজার মোটরসাইকেলযোগে চুয়াডাঙ্গার পথে রওনা দিলে পথের মধ্যে মুন্সিগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে ওই প্রতারক বিকাশে টাকা দেওয়ার জন্য তাঁকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিকাশে টাকা দিতে বাধ্য করেন। সে দিনই বিকেল পাঁচটার দিকে মুন্সিগঞ্জ থেকে ফিরে আলমডাঙ্গা শহরের বিজেস রামেকার দোকান থেকে দুই নম্বরে ৫০ হাজার টাকা পাঠান ম্যানেজার। টাকা পাঠানোর পরে উত্তরা ট্রেডার্সের ম্যানেজার মহেষ কুমার ভৌতিকা বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের মালিক গিরিধারী মোদি লালকে অবগত করেন। মোদি চুয়াডাঙ্গার এসপি জাহিদুল ইসলামের নিকট মোবাইল ফোনে জানালে এসপি জানান, আতিকুর নামের সিআইডির কোনো এসপি নেই এবং বিষয়টি নিয়ে তিনি গুরুত্ব সহকারে খোঁজখবর নেন। পরবর্তীতে ২ এপ্রিল রাতে উত্তরা ট্রেডার্সের ম্যানেজার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৪ মে আলমডাঙ্গা থানার পুলিশ নওগাঁর রাণীগঞ্জ থেকে আকমল হোসেন মামুন (৪৯) নামের এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করে। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার সরকাটারি গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে। আটককৃত প্রতারক আকমল হোসেন মামুনের স্বীকারোক্তিতে গত ১০ শে জুন টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার কদিম কাকনা গ্রাম থেকে কেসমত আলীর ছেলে সমির হোসেনকে (৩৭) আটক করে পুলিশ। তিনি একজন বিকাশ এজেন্ট। তাঁর দোকানের এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা তাঁর মোবাইলে যায়। সমির হোসেনের নিকট থেকে বিকাশে ২৫ হাজার ৫ শ টাকা, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই সংশ্লিষ্ট মামলায় তাঁকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। বিকাশ প্রতারণা চক্রের তথ্য পাওয়ার জন্য থানা পুলিশ কোর্টে তাঁর জন্য তিন দিনের রিমার্ড চেয়ে আবেদন করে। আবেদনের ভিত্তিতে কোর্ট এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ২১ শে জুন রোববার রিমান্ডের জন্য তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নিজে ও এই প্রতারণার চক্রের সক্রিয় সদস্যদের নাম পুলিশকে জানান তিনি। তা ছাড়া তাঁর দোকানে বিকাশে প্রতারণার সব টাকা লেনদেন করা হত। সে নিজেও টাকার ভাগ এবং সরাসরি প্রতারণা চক্রের সঙ্গে সক্রিয় ছিল। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মাসুদুর রহমান জানান, কোর্টের আদেশ অনুযায়ী তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর দোকান ছিল টাকা আদান-প্রদানের জন্য। তিনি বাংলাদেশের সক্রিয় বিকাশ প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত। এই প্রতারণার মূল এবং সক্রিয় সদস্যের নাম পুলিশের হেফাজতে আছে। রিমান্ড শেষে গতকাল সোমবার সকালে আবারও তাঁকে জেলহাজতে প্রেরণ করে পুলিশ।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)