ছবির ক্যাপশন:
২৪ ঘণ্টায় জীবননগর ইসলামী ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তাসহ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত করেছে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাব। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ছয়টায় চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৮৯ জনে। গতকাল চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ১ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ২ জন, জীবননগর ইসলামী ব্যাংকের ৫ কর্মকর্তাসহ জীবননগরে ৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ ঘটনায় জীবননগর ইসলামী ব্যাংকসহ পাঁচ কর্মকর্তার বাড়ি লকডাউন করেছে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুনিম লিংকন।
জানা যায়, গত বুধবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন ব্যাংকের কর্মী মারা যান। ওইদিন রাতেই কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব চুয়াডাঙ্গায় ১৭ জনের করোনা শনাক্ত করে। হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত দর্শনা বাসস্ট্যান্ড পাড়ার সোলাইমানের শরীরেও করোনা শনাক্ত হয়। তিনি জীবননগর ইসলামী ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। এরপরেই ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ অনেকের নমুনা সংগ্রহ করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। গতকাল প্রাপ্ত নমুনার ফলাফলে ওই ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তার শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যাংকের শাখাটি লকডাউন ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে গতকাল আক্রান্ত ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তার বাড়িসহ জীবননগরে করোনা আক্রান্ত ছয়জনের বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুনিম লিংকন।
এদিকে, গতকাল করোনা আক্রান্ত সন্দেহে চুয়াডাঙ্গা থেকে ২০টি নমুনা সংগ্রহ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সদর উপজেলা থেকে ৭টি, আলমডাঙ্গা উপজেলা থেকে ১৩টি নমুনাসহ সংগৃহীত ২০টি নমুনা পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শামীম কবির বলেন, জেলায় নতুন আক্রান্ত ৯ জনের মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলার একজনকে হাসপাতালের আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলার ১ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলায় আক্রান্ত আরও একজন ও জীবননগর উপজেলায় আক্রান্ত ছয়জনকে হোম আইসোলেশন ব্যবস্থায় নেওয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জেলায় এখন পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ১ হাজার ৯৪৬টি। প্রাপ্ত ফলাফল ১ হাজার ৮৬০টি। করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৮৯ জনের, করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে ১ হাজার ৬৬৯ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১০৮ জন ও মৃত্যু ২ জন।
