ছবির ক্যাপশন:
দীর্ঘ দুইমাস পর জুম অ্যাপে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় ডিসি-এসপি
মেহেরাব্বিন সানভী:
করোনাকালীন পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ দুই মাস পর চুয়াডাঙ্গায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে জুন মাসের আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা ১১টায় জুম অ্যাপে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ থেকে কমিটির কয়েকজন সদস্য এবং জুম অ্যাপে কয়েকজন সদস্য যুক্ত হলে এ সভার কার্যক্রম শুরু হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘মার্চ মাসে সর্বশেষ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। করোনভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এপ্রিল ও মে মাসে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে দুই মাস আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো ছিল। এখন কঠিন একটা সময় যাচ্ছে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের জন্য। চুয়াডাঙ্গা ছোট জেলা, সে হিসেবে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক। প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর দিন-রাত মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। দীর্ঘদিন লকডাউন থাকার পর এখন লকডাউন উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সচেতন থাকতে হবে। প্রতিনিয়তই স্বাস্থ্যবিধি না মানার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে জরিমানা করছে এবং স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ৩ মাসে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এটিও কিন্তু অনেক বেশি। বারবার সচেতন করা সত্ত্বেও মানুষ মানতে চাচ্ছে না। দু-এক শ টাকা করে জরিমানা করতে করতে এত টাকা।’
জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার আরও বলেন, ‘করোনাকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার একটি নিয়ম বা গাইডলাইন করে দিয়েছে। একজন সুনাগরিকের দায়িত্ব সেটি মেনে নেওয়া। কিন্তু এতো বুঝিয়ে, সচেতন করে, পত্র-পত্রিকা-টেলিভিশনে আসার পরও মানুষ মানতেই চাচ্ছে না। অথচ প্রতিদিনই মানুষের আক্রান্তের সংখ্যা আর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এ সময় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের লকডাউন করা পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া ও খাবার কিনে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, লকডাউন যাতে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকে জোর খেয়াল রাখতে হবে। প্রত্যেক পরিবারের খাবার আছে কি না, সেই খোঁজ নিতে হবে। অস্বচ্ছল পরিবারের খাবার সরকারিভাবে কিনে দিতে হবে। কেউ না খেয়ে থাকবে না।’
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম নিজ কার্যালয় থেকে জুম অ্যাপে অংশগ্রহণ করে বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের সুন্দর সুবিধা নিয়ে আমরা আজকের এই আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়। গত দুই মাস এ সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে পুলিশের নিরন্তর চেষ্টায় করোনাকালীন সময়েও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। পুলিশ মানুষের সেবা দিতে রাত-দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কাজ করতে যেয়ে আমার কয়েকজন পুলিশ সদস্যও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে খুশির সংবাদ, ৬ জন পুলিশ সদস্য ইতিমধ্যেই ছাড়পত্র পেয়েছেন। তাঁদের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। আরও ৮জনের রিপোর্ট একবার নেগেটিভ এসেছে। আরেকবার নেগেটিভ আসলেই তাঁরাও ছাড়পত্র পাবেন। আমার পুলিশ লাইন্স-এর একজন সদস্য আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর সংস্পর্শে যারা এসেছেন, তাঁদের সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। আসলে চুয়াডাঙ্গা ছোট জেলা হলেও, পুলিশের ডিউটি কিন্তু বড় জেলার মতোই। এ রকম পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ডিউটি করছে। সবমিলিয়ে দিন-রাত আমরা মানুষের সেবা দিয়ে চলেছি।’ পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, পুলিশের উদ্যোগে শুরু থেকেই অস্বচ্ছলদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মাস্কও বিতরণ করা হয়েছে। আমি কয়েকদিনের মধ্যে আরও এক লাখ মাস্ক বিতরণ করব।
সভায় জুম অ্যাপে যুক্ত থেকে অংশগ্রহণ করেন চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল খালেকুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান, চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আজিজুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন আলী, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা রহমান, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুনিম লিংকন, এনএসআইয়ের উপপরিচালক জামিল সিদ্দিক, চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ইয়াকুব হোসেন মালিকসহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিগণ। অপরদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল রঞ্জন চক্রবর্তী, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
