২০ বছরের নিচে আক্রান্তের ঝুঁকি অর্ধেক

আপলোড তারিখঃ 2020-06-18 ইং
২০ বছরের নিচে আক্রান্তের ঝুঁকি অর্ধেক ছবির ক্যাপশন:
করোনার তীব্র আক্রমণ শঙ্কায় বিশ্বের প্রতি ৫ জনের একজন সমীকরণ প্রতিবেদন: বিশ্বে একশত সত্তর কোটি মানুষ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছে এবং তারা সংক্রমিত হলে কোভিড-১৯-এর ভয়ানক একটি রূপের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। অপর একটি গবেষণা বলছে, ২০ বছরের নিচে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি অর্ধেক। এদিকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের তালিকায় ভারত, এরপর পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। সবচেয়ে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলে চীন থেকে নোভেল করোনাভাইরাসের উৎপত্তি। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে দেশটির উহান প্রদেশে এই ভাইরাস আঘাত হানে। অথচ বর্তমানে বিশ্বে আক্রান্ত দেশগুলোর তালিকায় ১৯ অবস্থানে চীন। ২২ লাখের বেশি আক্রান্ত ও এক লাখ ১৯ হাজার ১৩২ জনের মৃত্যুতে বিশ্বের মধ্যে আক্রান্তের শীর্ষে রয়েছে আমেরিকার নাম। প্রতি পাঁচজনের একজন তীব্র ঝুঁকিতে: গ্লোবাল হেলথ জার্নালের গবেষণার বিশ্লেষণ দেখিয়েছে বিশ্বজুড়ে প্রতি পাঁচজনের একজন মানুষ কোভিড-১৯-এর তীব্র আক্রমণের ঝুঁকিতে আছে। টেলিগ্রাফে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আরও বল হয়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাকে প্রতিরোধ করতে ডায়াবেটিস, এইডস, হৃদরোগ, কিডনি ও শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় ভোগা এবং বয়স্ক মানুষদের শরীর যথেষ্ট সাড়া দেয় না। অর্থাৎ পাঁচটি জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য করোনা পজেটিভ হলে বিপদ সর্বোচ্চ মাত্রায় যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। সংশ্লিষ্ট গবেষকরা বলছেন, এ গবেষণা থেকে সরকারগুলো বুঝতে পারবে করোনা চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন দেয়ার ক্ষেত্রে কাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। তারা বলেন, আমরা আশা করি ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা নিতে এই গবেষণা সূচনাবিন্দু হিসেবে সহায়ক হবে,’ বলেছেন সংশ্লিষ্ট গবেষক, লন্ডন স্কুল অব হাইজিন এ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক এ্যান্ড্রু ক্লার্ক। এশিয়ার সঙ্কট বাড়ছে: করোনার সর্বশেষ তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ডও দেয়া তথ্যমতে এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২১৫ দেশ ও অঞ্চলে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৮২ লাখ ৮২ হাজার ১৫ জন। মৃত্যু হয়েছে চার লাখ ৪৬ হাজার ৫২২ জনের। সুস্থ হয়েছেন প্রায় ৪৩ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ। ক্রিটিকেল কন্ডিশনে রয়েছেন সাড়ে ৫৪ হাজারের বেশি মানুষ। আক্রান্ত ও মৃত্যু বিবেচনায় প্রথমে যে দেশটির নাম রয়েছে সেটি হলো যুক্তরাষ্ট্র। অন্য শীর্ষ ১৯ দেশের মধ্যে রয়েছে, ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, ইউকে, স্পেন, ইতালি, পেরু, ইরান, জার্মানি, চিলি, তুর্কী, ফ্রান্স, ম্যাক্সিকো, পাকিস্তান, সৌদি আরব, কানাডা, বাংলাদেশ, চীন ও কাতার। শীর্ষ ২০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮তম আর ভারতের অবস্থান চতুর্থ। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। বুধবার দেশটিতে দুই হাজার তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। যেসব দেশ করোনার মহামারীর শিকার সেখানে একদিনে এত মৃত্যু হয়নি। দেশটিতে মোট রোগীর সংখ্যা তিন লাখ ৫৪ হাজার। বুধবার আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার। সবার আগে সংক্রমিত দেশ চীনের বৈশ্বিক অবস্থান ১৯তম। দেশটি টানা লকডাউন প্রক্রিয়ায় ও প্রতিরোধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ১৫তম অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের নাম। দেড় লাখের বেশি রোগী এখন করোনায় আক্রান্ত। সব মিলিয়ে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত-পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সঙ্কট বাড়ছে। করোনায় নিরাপদ ২০ বছরের কম বয়সের মানুষ: ২০ বছর বা তার বেশি বয়সের মানুষদের তুলনায় শিশু এবং কিশোর বয়সীদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় অর্ধেক বলে তথ্য এসেছে এক গবেষণা নিবন্ধে। লন্ডন স্কুল অব হাইজিন এ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিনের এপিডিমিওলজিস্টদের ওই গবেষণা মঙ্গলবার নেচার মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত হয় বলে সিএনএন জানায়। রোগের ঝুঁকি এবং বয়সের সঙ্গে এর সম্পর্ক বের করতে সংক্রমণ মডেল ব্যবহার করা হয়েছে এই গবেষণায়। গবেষকরা বলছেন, সমীক্ষায় ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ২১ শতাংশের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ এর ক্লিনিকাল লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে দেখেছে তারা। ৭০ বছর বা এর বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৬৯ শতাংশ। চীন, জাপান, ইতালি, সিঙ্গাপুর, কানাডা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মহামারী সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা বলছেন, সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা শিশু-কিশোরদের কোভিড-১৯ হওয়ার ঝুঁকি অপেক্ষাকৃত কম এবং আক্রান্ত হলে তাদের অবস্থা কম গুরুতর হতে পারে। কোভিড-১৯ নিয়ে এখনও অনেক বিষয় বিজ্ঞানীদের অজানা। তবে যুক্তরাষ্ট্র্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্র্রোল এ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে, কিছু শিশু করোনাভাইরাসে অসুস্থ হয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের বেশিরভাগই প্রাপ্তবয়স্ক। সিডিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের সাধারণত মৃদু উপসর্গ থাকে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, শিশুদের মধ্যে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি কম থাকা নিয়ে সরাসরি প্রমাণের ক্ষেত্রে মিশ্র ফল পাওয়া গেছে। তবে এটি সত্য হলে সামগ্রিকভাবে বিশ্বে কম সংক্রমণ হতে পারে। যেসব দেশের জনসংখ্যার গড় বয়স কম, সেসব দেশে মাথাপিছু কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা কম হতে পারে। এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ ও এপিডিমিওলজির অধ্যাপক মার্ক উলহাউস বলেন, ‘গবেষকরা দেখতে পেরেছেন যে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সংক্রমণের ঝুঁকি কম এবং সংক্রমিত হলে লক্ষণগুলো দেখানোর সম্ভাবনাও কম। তবে তারা সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষেত্রেও অন্যদের চেয়ে কম কিনা তা গবেষকরা নির্ধারণ করতে পারেননি। সায়েন্স মিডিয়া সেন্টারকে তিনি বলেন, এর ফলে কোভিড-১৯ এর বিস্তারের ওপর স্কুল বন্ধের প্রভাবের সঠিক মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)