ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহ অফিস:
ঝিনাইদহ জেলায় বাড়ি এ পর্যন্ত এমন চার ব্যক্তি করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয় ঢাকায়। তাঁদের বাড়ি হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামে। এই গ্রামের মহিউদ্দীন মোল্লার ছেলে বাংলাদেশ বিমানের জুনিয়র টেকনিশিয়ার জয়নুল আবেদীন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার পর গত ৬ জুন হরিশপুর গ্রামে তাঁর দাফন করা হয়। ১০ দিন পর তাঁর আরেক ভাই ঢাকা মহানগরীর গুলশান উদয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির ঢাকা মহানগরের সভাপতি খয়বর আলী করোনা আক্রান্ত হয়ে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে ইন্তেকাল করেন। গত ৭ জুন মারা যান শৈলকুপার কবিরপুর গ্রামের গোপাল কৃষ্ণ সাহা। মৃত্যুর ৫ দিন পর তাঁর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। সর্বশেষ মৃত্যুর ৩ দিন পর ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যাংকার ফয়েজ উদ্দিনের করোনাপজেটিভ এসেছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. সুলতান আহমেদ জানান, গত ১৩ জুন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান ফয়েজ উদ্দীন। মৃত্যুর এক দিন আগে তাঁর নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এরপর তাঁর বাড়িটি লকডাউন ঘোষণা করে উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া তাঁর পরিবার ও দাফন কাজে অংশ নেওয়া সদস্যদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ওই ব্যাংক কর্মকর্তা কালীগঞ্জ উপজেলার কুল্যাপাড়া গ্রামের হেদায়েত মোল্লার ছেলে। মারা যাওয়ার তিন দিন আগে ঢাকা থেকে সর্দি, কাশি ও শ^াসকষ্ট নিয়ে বাড়িতে আসেন। এরপর গত শুক্রবার গভীর রাতে তিনি মারা যান। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করতেন। এদিকে ঝিনাইদহে নতুন করে আরও ৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম। তিনি জানান, ঝিনাইদহে মঙ্গলবার নতুন ৪৭টি নমুনার রিপোর্ট এসেছে। যার মধ্যে ৫টি নমুনার রিপোর্ট পজেটিভ। আক্রান্তদের মধ্যে কালীগঞ্জের ৪ ও মহেশপুরের ১ জন রয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট ১৩৬৭টি নমুনার রিপোর্টে ১০৪ জন করোনায় আক্রান্ত হলেন। যার মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪৩ জন। এই জেলার বাসিন্দ হিসেবে ৪ জনের মধ্যে দুইজন ঢাকায় ও দুইজন ঝিনাইদহে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করল।
