সমীকরণ প্রতিবেদক:
জীবননগরের ইসলামপুরে আল আকসা জামে মসজিদের ইমাম পরিবর্তনের বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্রে ভুল তথ্য পরিবেশন করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। গতকাল সোমবার বিকেলে আসরের নামাজের পর মসজিদের সামনে চ্যাংখালী সড়কে কয়েক শ মুসল্লী ও এলাকাবাসী এ মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধনে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ইসলামপুর গ্রামের সুনাম ক্ষুণ্ন ও মসজিদ কমিটিকে বিপদে ফেলতে কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল ইমাম পরিবর্তনের বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় পত্রিকাসহ জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয় সুদ নিয়ে আলোচনা করায় ইমামকে বাদ দিলেন এলাকাবাসী। এমন সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। সুদ নিয়ে আলোচনা করায় ইমাম প্রত্যাহার হয়েছে, এমন সংবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে। এদিকে, ইসলামপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি তোলেন। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর পৌর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি আতিয়ার রহমান।
এ সময় তিনি তাঁর বক্ত্যব্যে বলেন, যে সাংবাদিক কোনো যাচাই-বাছাই না করে এমন সাংবাদ পরিবেশন করেছে, তার জন্য ধিক্কার জানাই। মসজিদের সভাপতি মো. সুরুজ সরকার ও সেক্রেটারি খোকন বলেন, ‘কমিটিকে বিপদে ফেলতে কেউ অতিরঞ্জিত করে বিষয়টিকে সাংবাদিকের কাছে ভুল তথ্য পরিবেশন করে আমাদের গ্রামের সুনামকে ক্ষুণ্ন করছে। এছাড়াও যে বিষয় নিয়ে ইমাম বাদ হয়নি, সে বিষয়টাকে নিয়ে পত্রপত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হয়েছে, এমন সংবাদের আমরা তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।’
এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, মসজিদের ইমাম মো. মনিরুল ইসলামের সঙ্গে স্থানীয় মুসল্লীগণ কয়েকদিন পূর্বে নামাজের মাসআলা নিয়ে জানতে চান। তিনি নামাজের মাসআলার বিষয়ে ভুল তথ্য দেন। এছাড়াও মসজিদের ইমাম নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন সমালোচনা হওয়ায় ইমাম সাহেব নিজে ইমামতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
ইসলামপুর আল আকসা জামে মসজিদের ইমাম মনিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ‘আমি স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে চলে গিয়েছি এবং আমি অন্যত্র একটি চাকরির সন্ধানে ছিলাম। এমতাবস্থায় আমি দেখতে পাই আমাকে নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আবেগের বশবর্তী হয়ে ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করছে। আসলে আমি জুমার খুৎবার আগে সুদের কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করিনি। আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি এবং সভাপতি সাহেবের কাছে চাবি ও অন্যান্য দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি।’
