বিপর্যস্ত মোদি সরকার

আপলোড তারিখঃ 2020-06-15 ইং
বিপর্যস্ত মোদি সরকার ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ প্রতিবেদন: সব খুলে দিয়ে বিপর্যস্ত ভারতের মোদি সরকার। প্রতি ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১১ হাজার আক্রান্ত, মৃত্যু গড়ে প্রতিদিন ৩০০ ছাড়াল। রাজ্যজুড়ে এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে বেশ কয়েকটি লকডাউন সংক্রান্ত ‘বার্তা’। কোথাও বলা হচ্ছে— ‘বাড়তে থাকা সংক্রমণ রুখতে আগের থেকে অনেক বেশি কঠোরভাবে জারি করা হবে দেশজুড়ে লকডাউন। বন্ধ করে দেয়া হবে বিশেষ ট্রেন এবং বিমান পরিষেবা। আবার কোনো মেসেজে ১৫ জুন থেকে শুরু হচ্ছে লকডাউন-৫ বা পঞ্চম দফার লকডাউন। বাস-ট্রেন থেকে শুরু করে বন্ধ করে দেয়া হতে পারে বাজার-দোকানও। সেখানে বলা হচ্ছে, ১৭ থেকে ২২ জুনের মধ্যে ঘোষণা হতে চলেছে লকডাউন-৫। এবার লকডাউন নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব বর্তাতে পারে সেনা বা আধা সেনার ওপর। প্রতিদিনই সংক্রমণের রেকর্ড ছাড়াচ্ছে। জানা গেছে, ২৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত প্রায় পুরোদস্তুর লকডাউনের পর গত ১ জুন থেকে আনলক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে দেশজুড়ে, কনটেনমেন্ট জোনকে বাদ রেখে। কিন্তু যেভাবে একটার পর একটা দেশকে টপকে ভারত সংক্রমিতের তালিকায় উপরে উঠে আসছে, তাতে উদ্বেগও বাড়ছে রাজ্যজুড়ে। এক দিকে লকডাউনে মানুষের জীবন জীবিকায় টান, অন্য দিকে আনলক পর্বে আরও দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা— এই দুইয়ের মাঝে প্রবল টানাপড়েনের মধ্যেই থাকতে হচ্ছে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারগুলোকে। গতকাল রোববার সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৯২৯ জন। এখনো পর্যন্ত এক দিনে এত মানুষ করোনায় আক্রান্ত হননি। এই নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হলো তিন লাখ ২০ হাজার ৯২২ জন। পাশাপাশি এই নিয়ে পরপর দু’দিন ১১ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেন। গতকাল সংখ্যাটা প্রায় ১২ হাজারের কাছাকাছি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী দেশে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৩১১ জনের। এই নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হলো ৯ হাজার ১৯৫ জন। এর মধ্যে শুধু মহারাষ্ট্রেই মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ৮৩০ জন। মৃতের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে গুজরাট, মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৪৪৮ জনের। দিল্লিতে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ২৭১ জন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণেও শীর্ষে মহারাষ্ট্র। একমাত্র ওই রাজ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা লক্ষাধিক। গতকাল দেয়া কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের হিসাবে রাজ্যে মোট আক্রান্ত এক লাখ চার হাজার ৫৬৮ জন। মহারাষ্ট্র ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর শনিবারের বৈঠকে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আরও চার রাজ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে আইসিএমআর বারবার দাবি জানাচ্ছে, ভারতে করোনার গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়নি। তারপরও প্রতিদিন গড়ে আক্রান্ত হচ্ছেন ১০ থেকে ১১ হাজারের বেশি লোক, মৃতের সংখ্যা তিন শতাধিক। এ পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও চিন্তিত মোদি। আগামী সপ্তাহে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে তিনি নিজেই গোটা দেশের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর পৌরোহিত্যে হওয়া এক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন, ক্যাবিনেট সচিব রাজীব গৌবা, স্বরাষ্ট্র সচিব অজয় ভাল্লা এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আমলারা। ছিলেন আইসিএমআরের প্রধান অধ্যাপক বলরাম ভার্গবও। বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন জানান, দেশে সংক্রমণ বাড়ার পাশাপাশি সুস্থতার হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে, তা ইতিবাচক দিক। এ মুহূর্তে দেশের সুস্থতার হার ৪৯ শতাংশ, মৃত্যুর হার ২.৮ শতাংশ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের পরিস্থিতি ভালো, এটা জানার পরও প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, প্রতিটি রাজ্যকে বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে। ভবিষ্যতে সংক্রমণ যাতে না বাড়ে, সে জন্যই তা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে করোনা সংক্রমণের শীর্ষে থাকা দেশের প্রথম আটটি রাজ্যকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই রাজ্যগুলো হলো— মহারাষ্ট্র, গুজরাট, তামিলনাড়ু, দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশ। এর মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ে প্রকাশিত প্রটোকলে কোভিডের নতুন উপসর্গ যুক্ত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আচমকা গন্ধ ও স্বাদ গ্রহণের ক্ষমতা চলে যাওয়াও কোভিডের একটি উপসর্গ। অন্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে— জ্বর, কাশি, ক্লান্তি, শ্বাসের সমস্যা, শ্লেষ্মার সমস্যা, পেশিতে ব্যথা, সর্দি, গলা ব্যথা ও ডায়রিয়া। এর মধ্যেই চিন্তা বাড়াচ্ছে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য। গত বৃহস্পতিবার আইসিএমআর সেরো সার্ভের রিপোর্ট প্রকাশ করে দাবি করেছিল, ৬৫ জেলায় ২৬ হাজার ৪০০ জনের মধ্যে মাত্র ০.৭৩ শতাংশ করোনা সংক্রামিত, যার থেকে প্রমাণ হয়— দেশে গোষ্ঠী সংক্রমণ হয়নি। আইসিএমআরের এই রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলে একাধিক ভাইরোলজিস্ট, স্বাস্থ্য ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা, দেশের অনেক জায়গায় গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়ে গেছে, কেন্দ্র তা স্বীকার করছে না। এইমসের সাবেক ডিরেক্টর এম সি মিশ্র যেমন মনে করেন— ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে সেরো সার্ভের এই স্যাম্পল সাইজ যথেষ্ট নয়। অনেক জায়গায়ই সংক্রমণের উৎস বোঝা যাচ্ছে না। সরকারের উচিত বাস্তবটা স্বীকার করে নেয়া, যাতে লোকে আত্মতুষ্টিতে না ভুগে আরও সচেতন হতে পারে। রাজ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা যে রাজ্যের, সেই মহারাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ পেরিয়ে গেছে। মুম্বাইয়ে ৯৯ শতাংশ আইসিইউ বেড এবং ৯৪ শতাংশ ভেন্টিলেটর এখনই কাজে লাগছে, সংক্রমণ আরও বাড়লে কী হবে, চিন্তায় প্রশাসন। দিল্লিতে আক্রান্ত ৩৬ হাজারের বেশি এবং মৃতের সংখ্যা এক হাজার ২১৪ জনে পৌঁছেছে। সেখানে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল এবং উপ-রাজ্যপাল অনিল বৈজলের সঙ্গে গতকাল বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। আগামীকাল ১৬ এবং ১৭ জুন এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যে হারে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে দেশে, তাতে যদি কোনো করোনা প্রভাবিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কড়া হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কথা মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট রাজ্যে পুনরায় লকডাউন নীতি প্রয়োগ করার কথা বলেন, তা হলে শর্তসাপেক্ষে সেই প্রস্তাব মেনে নেবে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রাথমিকভাবে এমনটাই স্থির হয়েছে শনিবারের বৈঠকে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)