ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ প্রতিবেদন:
দেশে একদিনে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু ও রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৯৫ জনে। গত শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আরও ৩৪৭১ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা এক দিনে সর্বোচ্চ। তাতে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১ হাজার ৫২৩ জনে। সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন আরও ৫০২ জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১৭ হাজার ২৪৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা শুক্রবার দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরেন।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ৮ মার্চ, তার দশ দিনের মাথায় অর্থাৎ ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। এরপর গত ১০ জুন তিন হাজার ১৯০ জন নতুন রোগী শনাক্তের তথ্য দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর, যা এতদিন একদিনে সর্বোচ্চ ছিল। তার আগের দিন ৪৫ জনের মৃত্যুর তথ্য দেয়া হয়েছিল বুলেটিনে, শুক্রবার সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেল। নাসিমা সুলতানা বলেন, গত এক দিনে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ, ৯ জন নারী। তাদের ৩২ জন হাসপাতালে ও ১৪ জন বাড়িতে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ১৯ জন ঢাকা বিভাগের, ১১ জন চট্টগ্রাম, ৩ জন সিলেট, ২ জন রাজশাহী, ৩ জন বরিশাল, ৫ জন রংপুর, ১ জন খুলনা ও ২ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। এই ৪৬ জনের মধ্যে ১ জন রোগীর বয়স ছিল ১০০ বছরের বেশি। এ ছাড়া ১ জনের বয়স ৮১-৯০ বছরের মধ্যে, ৭ জনের বয়স ৭০-৮০, ১৫ জনের ৬১-৭০, ১২ জনের ৫১-৬০, ৩ জনের ৪১-৫০, ৬ জনের ৩১-৪০ ও ১ জনের বয়স ২১-৩০ বছরের মধ্যে ছিল। বুলেটিনে জানানো হয়, সারা দেশে ৫৯টি পরীক্ষাগারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ হাজার ৯৯০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ১৬ শতাংশ, মৃতের হার ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। পরীক্ষাগারের তালিকায় নতুন যুক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি, ইমপেরিয়াল হাসপাতাল এবং ঢাকার ড. লালপ্যাথ ল্যাব বাংলাদেশ। নাসিমা সুলতানা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে আনা হয়েছে ৫৩৬ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে আইসোলেশনে রয়েছেন ৯ হাজার ১২ জন রোগী। করোনার ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে সবাইকে অনুরোধ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। অনলাইন ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, শিশুরা অনেক দিন ধরে ঘরে বন্দি। তাদের বিষয়ে যত্নশীল হোন। সবার মানসিক স্বাস্থ্য উজ্জীবিত রাখতে হবে। ব্যায়াম করতে হবে, পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।
